kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় প্রতিবাদ, ভুক্তভোগীর পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর হামলা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ২১:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় প্রতিবাদ, ভুক্তভোগীর পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর হামলা

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী পূর্বপাড়া গ্রামের গোলাম হোসেনের মেয়ে ঝিকরগাছা মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অঞ্জলী খাতুনকে (২০) উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত কলেজছাত্রী অঞ্জলী খাতুন(২০), শাহাজানের স্ত্রী বেবী (৪৫), রাসেল হোসেনের স্ত্রী মনিরা বেগম (৩০), আবু বক্করের স্ত্রী শিরিনা খাতুন (২৬), গোলাম হোসেনের স্ত্রী ফাইমা আক্তারকে (৪০) স্থানীয় শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। থানায় মামলা হলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। 

আহত কলেজ ছাত্রী অঞ্জলী খাতুন জানান, দীর্ঘদিন থেকে একই গ্রামের ভ্যানচালক সাজ্জাদ (২৫) তাকে কলেজে যাতায়াতের সময় বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। সুযোগ পেলেই তাকে কুপ্রস্তাব দিত। পুকুরে গোসলের সময় কৌশলে মোবাইল ফোনে তার ভিডিও ধারণ করতো। ঘটনার দিন সাজ্জাদকে এসব ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমে তার মাকে এলোপাতারি মারতে থাকে। তার মাকে ছাড়াতে গেলে কোরবান আলীর ছেলে ভ্যানচালক সাজ্জাদ, তার শ্যালক হাফিজুর ও মফিজুর, মঙ্গল খাঁর ছেলে মোস্তফা, আব্দুর রহমানের ছেলে নুরুজ্জামান ও মেয়ে মুক্তি, নুর আলীর ছেলে মিন্টু, মোস্তফা খাঁর স্ত্রী সুলতানা, আনিছুরের স্ত্রী জেসমিন, মফিখাঁর স্ত্রী শাহিনুর, রাজ্জাক খাঁর স্ত্রী ছায়রাসহ খাঁ বংশের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য তাদের পরিবারের পাঁচ জনের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় তারা মারাত্মক আহত হয়। এ সময় তাদের শরীর থাকা স্বর্ণের ৫ ভরি ওজনের ৪টি চেইনও ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে আশেপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

অঞ্জলী আরো জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সাজ্জাদসহ খাঁ বংশের সদস্যরা এ হামলা চালিয়েছে। হামলা করার সময় তাদের মামলা ও সাংবাদিকদের না জানাতে হুমকিও দিয়ে যায়।
 
কলেজছাত্রী অঞ্জলীর মা ফাইমা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে সাজ্জাদ সব সময় উত্ত্যক্ত করতো। তাকে নিষেধ করার পরও সে আমার মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিত। এর প্রতিবাদ করতে গেলে প্রথমেই সাজ্জাদ আমাকে কিল ঘুষি মারতে থাকে। পরবর্তীতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমাকে আমার পরিবারের সদস্যরা বাচাঁতে এগিয়ে এলে সাজ্জাদের শ্বশুর বাড়ির লোকজনরাও মারপিট করে।’

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার এম এ মারুফ আহত কলেজছাত্রী অঞ্জলীর পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তারা হামলার কারণে বিভিন্নভাবে আহত হয়েছে। মাথার সিটিস্ক্যানসহ এক্সরে করাতে বলেছি। রিপোর্ট পেলে বুঝা যাবে আঘাত কতটুকু গুরুতর।

শার্শা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা