kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

যমুনা নদীর পানি বেড়ে সড়ক ও ঘাট পানির নিচে, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৮:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনা নদীর পানি বেড়ে সড়ক ও ঘাট পানির নিচে, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের মানুষ

বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে গেছে শহড়াবাড়ি ঘাট সড়ক। ছবি: কালের কণ্ঠ।

যমুনা নদীর পানি বেড়ে সড়ক ও ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বগুড়ার সারিয়াকান্দির কালিতলা ও ধুনটের শহড়াবাড়ি খেয়াঘাটের সঙ্গে ৩০টি রুটের নৌযান  চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দুই ঘাট বন্ধ থাকায় নৌপথে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। স্থবির হয়ে পড়েছে ঘাট নির্ভর জীবন-জীবিকা। 

শুক্রবার সরেজমিন শহড়াবাড়ি খেয়াখাটে গিয়ে দেখা যায়, পানি বেড়ে ফুসে উঠেছে যমুনায়। ধারণ করেছে ভয়ঙ্কর রূপ। বইছে প্রবল স্রোত। জনশূন্য ঘাট এলাকায় শুধুই পানির গর্জন। সেখানে নৌকা ভিড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। অথচ এক সপ্তাহ আগে মাঝি-মাল্লা আর যাত্রীদের আনাগোনায় এই ঘাট ছিল সরগরম। আর এখন ঘাটে নেই যাত্রীর জন্য মাঝি-মাল্লারা হাঁকডাক। ঘাটে নৌকা ভিড়লেই যেখানে মালামাল তোলা-নামার জন্য কুলিরা দরদাম হাঁকাতেন, সেই ঘাট এখন অথৈ পানি ডুবে আছে।

যমুনা নদীর খেয়াঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ২৫ থেকে ৩০টি দোকানের সব কটিই পানির নিচে। যমুনা পাড়ের মানুষ এসব দোকান থেকে বাজার করতো। ঘাটের ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ। ঘাটে খাবারের হোটেল বন্ধ থাকায় হোটেল মালিকের আয়-উপার্জন বন্ধ। বেকার কর্মচারীরা। অলস বসে রয়েছেন ঘাটের মাঝিরাও। নদীতে নৌকা না ভেড়ায় বেকার দিন কাটাচ্ছেন শ্রমিক ও নদীপারের জেলেরা।

ঘাটের মাঝি-মাল্লারা জানান, সারিয়াকান্দির বহাইল, কাজলা, চালুয়াবাড়ি, কর্ণিবাড়ি, চন্দনবাইশা, কামালপুর, হাটশেরপুর, ধুনটের বৈশাখী, রাধানগর ও পুকুরিয়াসহ অর্ধশত চর রয়েছে এই এলাকায়। চরাঞ্চলের লোকজন ছাড়াও গাইবান্ধা, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের লোকজন নৌকায় যাতায়াত করেন। দুই উপজেলার ৩০টি রুটে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ নৌকা চলাচল করে। ঘাট বন্ধ থাকায় যাত্রী পারাপার ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। 

ঘাটের কুলি হাবিবর, জুলহাস, কেরামত ও লয়া মিয়ারা জানান, নৌকায় মালামাল তোলা-নামা করে আমাদের ভাত জোটে। এখন নদীতে পানি বেড়ে ঘাট তলিয়ে গেছে। এক সপ্তাহ ধরে নৌকা চলাচল করে না। তাই আমাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

ঘাটের মনিহারি দোকানি লিয়াকত আলী বলেন, বন্যার পানিতে ঘাট তলিয়ে গেছে। ফলে এক সপ্তাহ ধরে ঘাটে যাতায়াত বন্ধ। ঘাটে লোকজনের আনাগোনা নেই। দোকানের বেচাকেনা বন্ধ। দোকন বন্ধ থাকলেও পেট তো আর বন্ধ রাখা যায় না। তাই জীবন বাঁচাতে পুঁজি ভেঙে খাচ্ছি।

যমুনা নদীর শহড়াবাড়ি খেয়াঘাটের ইজারাদর হযরত আলী বলেন, ঘাটে যাতায়াতের একমাত্র পাকা সড়কটি বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। পানি বেড়ে ঘাট এলাকায় তলিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়ায় যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। শহড়াবাড়ি ঘাট থেকে ১৪টি রুটে প্রতিদিন গড়ে একশটি নৌকা চলাচল করে। ঘাট বন্ধ থাকায় যাত্রী পারাপার ছাড়াও কৃষিপণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা