kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৬:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশপল্লীতে নানা আয়োজন

ছবি: কালের কণ্ঠ।

কিংবদন্তি কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শুক্রবার। এ উপলক্ষে শুক্রবার নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয় গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে। এসব আয়োজনে নিহতের ভাই-বোন, শ্বশুর, হিমু পরিবহনের সদস্য, ভক্ত এবং নুহাশপল্লীর কর্মচারীরা অংশ নেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল লেখকের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন খানি ও দোয়া মাহফিল। 

স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন দুই শিশুপুত্র নিয়ে আমেরিকায় অবস্থান করায় কর্মসূচিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার রাতে নুহাশপল্লীতে আসেন শ্বশুর প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। সকাল ১০টার দিকে তিনি নুহাশপল্লীর কর্মচারীদের নিয়ে হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারত করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুহাশপল্লীতে আসেন প্রয়াত লেখকের ছোট ভাই কার্টুনিস্ট এবং মাসিক উন্মাদের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আহসান হাবীব। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আফরোজা আমিন, বোন সুফিয়া হায়দার, রোকসানা আহমেদ, অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মো. মাজহারুল ইসলাম, আগামী প্রকাশনীর ওসমান গনি, অভিনেতা সৈয়দ হাসান সোহেল প্রমুখ। পরে তারা লেখকের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

এ সময় লেখকের ভাই আহসান হাবিব জানান, হুমায়ূন আহমেদের সকল স্বপ্ন বাস্তাবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে তার অনেক স্বপ্নই বাস্তবায়িত হয়েছে। ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণসহ অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তিনি প্রকাশক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি হুমায়ূন আহমেদের লেখাগুলো নির্ভুলভাবে প্রকাশের অনুরোধ করে আরো বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে পারিবারিকভাবে একটি মিউজিয়ম স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তাকে নিয়ে একটি আর্কাইভ নির্মাণ করা হয়েছে। অনেকে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে গবেষণা করছেন। এ আর্কাইভ গবেষণা কাজে সহায়তা করবে। 

হিমু পরিবহনের সভাপতি মো. আসলাম হোসেন জানান, তারা সকালে ঢাকা, ফরিদপুর, নরসিংদী ও গাজীপুর থেকে ৬০ জন সদস্য নুহাশপল্লীর কর্মসূচিতে যোগ দেন। হিমু পরিবহনের সদস্যরা ৪০ জেলায় একযোগে তাদের প্রিয় লেখকের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তার মধ্যে বৃক্ষরোপণ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং বইমেলাও রয়েছে। তাদের উদ্যোগে ইতোমধ্যে ১০টি জেলা পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। 

এদিকে লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং তার দুই ছেলে নিশান ও নিনিদ দেশের বাইরে থাকায় লেখকের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি। যোগ দেন শাওনের বাবা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, শাওন চলচ্চিত্র বিষয়ক ছয় মাসব্যাপী এক প্রশিক্ষণ নিতে নিশাদ ও নিনিদকে সঙ্গে নিয়ে গত মে মাসে আমেরিকা গেছেন। এ জন্য তারা এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি। তবে শাওন নিউইয়র্কে স্বামীকে নিয়ে একটি স্মরণসভায় যোগ দেবেন।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকে কোরআন খানির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে এলাকার বিভিন্ন মাদরাসার এতিম শিশু ছাড়াও অতিথিদের খাওয়ার আয়োজন করা হয়। 

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা