kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বন্যার পানি বাড়ছেই, শেরপুর-জামালপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

শেরপুর প্রতিনিধি    

১৯ জুলাই, ২০১৯ ১৩:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন্যার পানি বাড়ছেই, শেরপুর-জামালপুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বন্যার পানি বাড়ছেই। আর এতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়ার সাথে সাথে চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। ডুবেছে সবজির আবাদ ও বীজতলা। বন্যার পানির তোড়ে ভেঙ্গেছ পুকুর এবং খামারের পাড়, ভেসে গেছে দুই শতাধিক পুকুরের প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মৎস্য সম্পদ। শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান ও শিমুলতলি ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রায় পাঁচ ফুট উচ্চতায় প্রবলবেগে বন্যার পানিতে প্রবাহিত হওয়ায় শুক্রবার ভোর থেকে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 

শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে পানি উন্নয়ণ বোর্ডের গেজরিডার (পানি পরিমাপক) মো. মোস্তফা মিয়া জানান, পানি বাড়ার গতি অব্যাহত থাকলে আজ সন্ধ্যার মধ্যেই শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদ বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদে পানিবৃদ্ধির ফলে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারি ইউনিয়নের সবগুলো গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকবর হোসেন। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বীজতলা, সবজির আবাদ। মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, কুলরচর-বেপারিপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় ২০০ পরিবার স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চুনিয়ারচর, সাতপাকিয়া, কুলুরচর, ডাকপাড়া এবং দিকপাড়া এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। বন্যার্তরা কী খাবেন, কোথায় যাবেন কোনো কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে আমি বিষয়টি অবহিত করে জরুরি সহায়তা চেয়েছি।

ব্রহ্মপুত্র নদে উজানের নেমে আসা পানিতে শেরপুর সদর, শ্রীবরদী ও নকলা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৩৫ গ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। এসব এলাকার অন্ত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তবে ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নামতে শুরু করায় ওইসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। 

জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার ১২৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত, ৭৪৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং ১৬৫ হেক্টর জমির আউস ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুল রউফ জানান, চলতি বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে এ পর্যন্ত শেরপুর জেলার ৩৫ ইউনিয়ন ১৭২ গ্রাম প্লাবিত হওয়া প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। 

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৫৩ কিমি কাঁচা রাস্তা, ২ দশমিক ৭ কিমি বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা দুর্গতদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের সহায়তার জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ২০০ টন জিআর চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও নগদ ৩ লাখ টাকা জরুরি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা