kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

প্রতিবাদী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা

‘বান্ধবী নিশাতের কোনো সমস্যা হয়েছে মনে হয়, আমি আসছি’

প্রভাষক কবিরসহ আরো তিনজনের সাক্ষ্য

ফেনী প্রতিনিধি    

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০৯:১০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘বান্ধবী নিশাতের কোনো সমস্যা হয়েছে মনে হয়, আমি আসছি’

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার আরো তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। তারা হলো ওই মাদরাসার প্রভাষক কবির আহাম্মদ, আলিম পরীক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার হামদুনা ও নাসরিন সুলতানা। আদালত আগামী রবিবার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মামুনুর রশিদের আদালতে গত ২৭ জুন থেকে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। এ পর্যন্ত মামলার বাদীসহ মোট ২৮ জনের সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রবিবার মামলার ২৯ থেকে ৩২ নম্বর সাক্ষী আলিম পরীক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার, বিবি হাজেরা, আবু বকর ছিদ্দিক ও আকবরের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রভাষক কবির আহাম্মদ বলেন, “৬ এপ্রিল আমি ৮ নম্বর হলের দায়িত্বে ছিলাম। ওই হলে নুসরাত জাহান রাফিও পরীক্ষা দিচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার কিছু পরে হলে উপস্থিত হই। পৌন ১০টায় খাতা দেওয়া শেষ করি। এ সময় দেখতে পাই একজন অনুপস্থিত রয়েছে। জানতে চাইলাম এটা কে? অন্যরা বলল, নুসরাত অনুপস্থিত। এর কিছুক্ষণ পর ‘আগুন’ ‘আগুন’ চিৎকার শুনতে পাই। খবর নিয়ে জানতে পারি নুসরাতকে অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছে।”

নুসরাতের সহপাঠী হামদুনা এবং নাসরিন সুলতানা বলেন, “সেদিন নুসরাত সাড়ে ৯টার দিকে হলে এসেছিল। কেউ একজন তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় নুসরাত আমাদের বলেছিল, ‘আমার বান্ধবী নিশাতের কোনো সমস্যা হয়েছে মনে হয়। আমি আসছি।’ এর ২০ থেকে ২২ মিনিট পর হৈচৈ শুনে অনেকের সঙ্গে আমরাও বাইরে আসি এবং দেখি একটি আগুনে পোড়া দেহ বেশ কয়েকজন মিলে ধরে সিএনজি অটোযোগে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। পরে খবর নিয়ে জানতে পাই, ওটা ছিল নুসরাত।” সাক্ষ্য শেষে সাক্ষীদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষে ছিলেন পিপি হাফেজ আহাম্মদ, এপিপি এ কে এস ফরিদ আহাম্মদ হাজারী ও এম শাহজাহান সাজু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা