kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

চলে গেলেন ভাষা সৈনিক গোলাম মোস্তফা

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

১৯ জুলাই, ২০১৯ ০১:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চলে গেলেন ভাষা সৈনিক গোলাম মোস্তফা

চলে গেলেন ভাষা সৈনিক গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন। বুধবার বেলা ১১টায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চর রামরায়েরকান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল (ইন্নালিলাহী...রাজিউন) করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

এদিন সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ভাষা সৈনিক গোলাম মোস্তফার মরদেহ রাখা হয় চাঁন্দেরচর শহীদ মিনারের সামনে। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চাঁন্দেরচর মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এ সময় শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল নোমান, থানার অফিসার ইনচার্জ জাকির হোসেন, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন খান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম মোস্তফা বাংলাভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক ছিলেন। ১৯৪৮ সালে মায়ের ভাষা বাংলাকে গ্রাস করার অপচেষ্টার শুরু থেকেই প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে মাদারীপুরের শিবচরের ছাত্র সমাজ। আন্দোলন গড়ে তোলার সাথে সাথে ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও বরিশালে। ১৯৫২-র রক্তঝরা ঢাকার রাজপথের সেই মিছিলেও অংশ নেন শিবচরের শিক্ষার্থীরা।

ভাষা আন্দোলনের অন্যদের নেতৃত্বে ছিলেন ভাষা সৈনিক গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক শ ছাত্রের তালিকা করেন তিনি। বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র গোলাম মোস্তফা আখন্দ রতন আহবায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল ও শিবচরের ২৫০ শতাধিক আন্দোলনে অংশ নিতে ঢাকায় যান।

২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টার দিকে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতেই কার্জন হল ও মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পুলিশের মুহুর্মুহু গুলি শুরু হয়। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্ররা মাটিতে শুয়ে জীবন রক্ষা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা