kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

কিশোরগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ

পুলিশ একা সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে পারবে না

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশ একা সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে পারবে না

মানুষের নিরাপত্তা না থাকলে সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে উঠবে না। মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস-সহিংসতা জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। পুলিশ একা সমাজ থেকে এসব অপরাধ দূর করতে পারবে না। জনতাকেই পুলিশিং কার্যক্রমে মাঠে নামতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে পুলিশকে। এ প্রেক্ষাপটে কিশোরগঞ্জে জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতনসহ সব ধরণের অপরাধের বিরুদ্ধে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে চাই। আর এ গণজাগরণে নেতৃত্ব দেবে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিগুলো। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলা থেকে এইসব অপরাধ দূর করব আমরা। তাই ভালো মানুষকে পুলিশিং কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। দূরে থাকলে চলবে না।

বৃহস্পতিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ এ অঙ্গীকার করেন।

শহরের সমবায় কমিউিনিটি সেন্টারে আয়োজিত পুলিশিং সমাবেশে রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের পুলিশ, আর স্বাধীন দেশের পুলিশ এক না। ব্রিটিশ আমলে পুলিশ সৃষ্টি করা হয়েছিল মানুষকে শোষণ করতে। কিন্তু স্বাধীন দেশের পুলিশ মানুষের সেবা করছে। সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে কাজ করে চলেছে। কিন্তু বর্তমান পুলিশ চলছে সেই ব্রিটিশ আমলের পুরনো আইন দিয়ে। সেখানে সেবা, বন্ধুত্ব বা মানবাধিকার বিষয়ে কিছুই লেখা নেই। তারপরও বর্তমান পুলিশ সেবা, বন্ধুত্ব ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছে।

তিনি এ সময় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের তৃণমূলের মেয়াদ উত্তীর্ণ পুরনো কমিটিগুলো নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেন। আর পুলিশ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তারাও কোনোভাবেই ছাড় পাবে না।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু বকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় অনেক বক্তা কমিউনিটি পুলিশের পুরোনো কমিটিগুলে ঢেলে সজানোর আহ্বান জানান। তারা বলেন, পুরনো কমিটিগুলো নিষ্ক্রিয়, কমিটির এমন সদস্যও রয়েছে যারা মাদকাসক্ত এমনকি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। কেউ কেউ আবার এলাকায় থাকে না। এ ধরণের কমিটি দিয়ে অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই সম্ভব না। 

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা পুলিশিং কমিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহফুজ পারভেজ, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য সচিব সাইফুল হক মোল্লা দুলু, সদর উপজেলা আওয়মী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, সদর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা বিলকিস বেগম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাকাউদ্দিন আহমেদ রাজন প্রমুখ।

সভায় কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্যদের পুলিশ চেনে না। চেনে মাদক ব্যবসায়ীদের। তাদের সঙ্গে পুলিশের দহরম-মহরম চলে। কেবল কাগজপত্রে পুলিশিং কমিটির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকলে কাজের কাজ কিছুই অর্জিত হবে না। অপরাধও নিয়ন্ত্রণ হবে না।

তবে সভা শেষে পুলিশ সুপার আরও বলেন, এসব সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে উঠার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য একজন পুলিশের কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যারা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনসহ এলাকায় গিয়ে অপরাধ বিষয়ে উঠান বৈঠক করবেন। মানুষকে সচেতন করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা