kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ইসকনের প্রসাদ বিতরণ ও নামজপের প্রতিবাদ হাটহাজারীতে

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ২৩:০৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসকনের প্রসাদ বিতরণ ও নামজপের প্রতিবাদ হাটহাজারীতে

চট্টগ্রামে প্রায় ৩০টি বিদ্যালয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন তাদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ফুড ফর লাইফ' কর্মসূচির মাধ্যমে মুসলিম শিক্ষার্থীদের মাঝে 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম' নামজপের মাধ্যমে দেবতার নামে উৎসর্গকৃত প্রসাদ বিতরণের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে এক বিশাল প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদরের ডাক বাংলো প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ সভা ও মিছিলের আয়োজন করে চট্টলার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন 'মুসলিম ছাত্র জনতা ঐক্য পরিষদ'। সমাবেশ থেকে প্রসাদ ভোগী স্কুল ছাত্রদের জমজমের পানি ও খেজুর খাওয়ানোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়াও এক ধর্মের শিশুকে অন্য ধর্মের আচার চাপিয়ে দেওয়া সাংবিধানিক অপরাধ দাবি করে এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন বক্তারা।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ইসকনের আগ্রাসী সাম্প্রদায়িক কর্মের নানা বর্ণনা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ এবং হরে রাম হরে কৃষ্ণের নামজপের ঘটনাকে মুসলিম ধর্মের উপর মারাত্মক আঘাত বলে অবহিত করেন।

ইসকনের এমন কাজে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর ষড়যন্ত্র বলে অবিহিত করে বক্তারা বলেন, ইসকনের কর্মীরা হরে রাম হরে কৃষ্ণ বলে মন্দিরের প্রসাদ বিতরণ করে ভিডিওর মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। তাদের এহেন কাণ্ডে মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আমরা এই সংগঠনটিকে এমন কৃতকর্মের জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

মাওলানা কামরুল ইসলাম কাছেমী ও মুফতী মাসউদু রহমান চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রতিবাদি সমাবেশে সভাপতিত্বে সভার আহ্বায়ক মাওলানা এমরান সিকদার। প্রধান অতিথি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মুমতাজুল করিম (বাবা হুজুর)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদ্রিস।

বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব আহসানুল্লাহ, মাওলানা নাসিম, নুর মুহাম্মদ, মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা মহিউদ্দিন, মাওলানা আসাদ প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, নব্বই ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দেশে আমরা চাই সকল ধর্মের মানুষ এখানে সম্প্রীতি বজায় রেখে সহাবস্থান করুক। কিন্তু কিছু হিন্দুদের উসকানিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে সেই পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এর পরিণতি ভয়াবহ হয়ে দেখা দিতে পারে। দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা চিন্তা করে সরকারের উচিত এখনই এই ইসকন গোষ্ঠির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও হত্যারও তীব্র প্রতিবাদ করা হয়। ভারতে মুসলমানদের নাগরিক অধিকার আদায়ে বিশ্ববাসীকে সচেষ্ট হতে আহবান করেন বক্তারা। জয় শ্রীরাম বলতে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে যে অমানবিক কাণ্ড করেছে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদিরা, তা বিশ্বের যেকোনো শান্তিকামী মানুষকে মর্মাহত করেছে। কিন্তু ভারত সরকার এমন কাণ্ডের প্রতিরোধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি।

বক্তারা আরো দাবি করেন, বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেদেশে মুসলমানদের উপর নির্যাতনের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই এর পতন চান তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা