kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

পায়ে হেঁটে রংপুর থেকে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী রফিকুল

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পায়ে হেঁটে রংপুর থেকে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী রফিকুল

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রংপুর থেকে পায়ে হেঁটে বঙ্গবন্ধুপ্রেমী রফিকুল ইসলাম এখন গোপালগঞ্জে। বাংলাদেশ ও বাঙ্গালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের কথা স্মরণ করে জেলায় জেলায় বঙ্গবন্ধুর ছবি অঙ্কন এবং মাজার জিয়ারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তার এ পদযাত্রা।

৫৯ বছর বয়সী রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর থেকেই তিনি জাতির পিতার ভক্ত হন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকা শুরু করেন। অবশেষে তিনি পায়ে হেঁটে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের স্বপ্ন পূরণের জন্য রংপুর জেলা প্রশাসকের অনুমতিপত্র নিয়ে গত ১৩ জুন পদযাত্রা শুরু করেন । এক মাস পাঁচ দিনে ১১ জেলার ২৬টি স্থানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকেছেন এবং পরিবেশবান্ধব কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেছেন। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এখন তিনি গোপালগঞ্জে অবস্থান করছেন এবং সিডিউল অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকছেন গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায়। এরপর আগামীকাল শুক্রবার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। আগামী ৪ আগষ্ট গণভবনে বঙ্গবন্ধুর ছবি অঙ্কন ও কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণের মাধ্যমে তার এ পদযাত্রা শেষ করবেন।

রফিকুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক। রংপুর শহরের তাজহাট বাবুপাড়া এলাকায় স্ত্রী রশিদা বেগম, দুই মেয়ে ও তিন ছেলেসহ বাবাকে নিয়ে একটি বাড়িতেই তার বসবাস। পরিবার পরিচালনার ভার ছেলেদের হাতে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালবাসা নিয়েই স্বপ্ন পূরণে ঘর থেকে বের হন তিনি।

রফিকুল ইসলাম আরো জানান, আমি মা-বাবার একমাত্র সন্তান হওয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে যেতে পারিনি, যার আক্ষেপ আমাকে সব সময় তাড়া করে। আমি রিকশা চালানোর পাশাপাশি প্রেস শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। সেখান থেকে ছবি আঁকার শুরু। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের দেয়ালে-দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর ছবি অঙ্কন করে আসছি। নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো ছড়াতে জেলায় জেলায় ছবি অঙ্কন এবং বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নের জন্য আমার এ পদযাত্রা। আমি পায়ে হেঁটে আগামী ৪ আগষ্ট গণভবনে বঙ্গবন্ধুর ছবি অঙ্কন ও কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করে আমার এ পদযাত্রা শেষ করবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা