kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ৩ জন চিকিৎসক!

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ৩ জন চিকিৎসক!

চিকিৎসক ও জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত যশোরের শার্শা উপজেলা (নাভারণ-বুরুজবাগান) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেবা প্রদানের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নাম মাত্র কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আবার রোগীদের সাথে প্রতারণ ও বাইরের পছন্দের বেসরকারি ক্লিনিকের সঙ্গে কমিশন বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়াও সার্জারি যন্ত্রপাতি অপ্রতুল, অপরিচ্ছন্নতা, ওয়ার্ডে পানি ও বিদ্যুতের সমস্যা, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত বাথরুম, রোগীদের ওষুধ না দেয়া, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের কাছ থেকে ভিজিট নেয়া, সরকারি ওষুধ চোরাই পথে বিক্রিসহ অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে রয়েছে এক্সরে ও ইসিজি মেশিন। আর প্যাথলজি বিভাগে চলছে অনিয়ম-দুর্নীতি। ভালোসেবা না পাওয়া, নিম্ন মানের খাবার প্রদান ও অপরিছন্ন পরিবেশে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।
 
১৯৬২ সালে নির্মিত এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির নামকরণ করা হয় শার্শার আদর্শ গ্রাম বুরুজবাগানের নামে। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে নির্মিত সুপ্রাচীন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যশোরের শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ আন্তজার্তিক স্থলবন্দর বেনাপোলসহ ঝিকরগাছা উপজেলার (একাংশের) সাড়ে ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা নির্ভরতার প্রতীক। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুযোগ সুবিধা বাড়েনি।

এ হাসপাতালে প্রতিদিন বহিঃবিভাগে তিনশ ৫০ থেকে চারশ রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হয়। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকে। রোগীদের কথা বিবেচনা করে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও তিন বছরেও এখানে কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জনবলের অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাড়েনি চিকিৎসা সেবার মান। হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার, এ্যানেস্থেসিয়া, গাইনি, সার্জারি, চক্ষু ও শিশুসহ কোনো ধরনের কনসালটেনন্ট নেই। ৩২ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে চার জন। এর মধ্যে এক জন মাতৃকালীন ছুটিতে আছেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির একশ ১৯ জন কর্মচারীর মধ্যে রয়েছে ৫৪ জন। স্বল্প জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষ। 

রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসা সেবার জন্য এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টার অপেক্ষা করে ডাক্তার খোঁজে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে জেলা শহরে ছুটে যেতে হয়। অর্থের অভাবে গরীব রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী জানান, প্যাথোলজিক্যাল বিভাগের টেকনিশিয়ান হুমায়ন কবির পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিজস্ব প্যাথোলজিক্যাল বিভাগে যে সব রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যায় তার ৮০ ভাগ রোগীকে কমিশন বাণিজ্যের জন্য চিকিৎসকরা বাইরের পছন্দের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠাচ্ছেন। ফলে সরকার রাজস্ব  থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালের ওষুধ বাইরে পাচার করে দিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের সরবরাহের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এদিকে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টেকনিশিয়ান হুমায়ুন কবীর। কোনো ওষুধ বাইরে বিক্রি করেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অশোক কুমার সাহা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৮ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি হয়। প্রতিদিন আন্তঃবিভাগ, বহিঃবিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন একজন মাত্র ডাক্তার। হাসপাতালে ডাক্তার, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল সংকট আছে। স্বল্প জনবল দিয়ে উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে শূন্য জনবল পূরণ হলে সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব। এক্সরে মেশিনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। হাসপাতালে যাতে সকল পরীক্ষা-নিরিক্ষাসহ মানুষ সব্বোর্চ সেবা পায় সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা