kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

যমুনার বাঁধে আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসিরা

রফিকুল আলম, ধুনট   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৬:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনার বাঁধে আশ্রয়ের খোঁজে বানভাসিরা

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুসে উঠেছে যমুনা নদী। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আর তাতেই হিংস্র হয়ে উঠছে যমুনা। শান্ত যমুনা অশান্ত হয়ে পড়ায়, চারপাশে পানি ছড়িয়ে পড়ছে। দিন যাচ্ছে, আর নতুন নতুন গ্রামে পানি ঢুকছে। ফলে প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি ছাড়া হচ্ছে নিত্য নতুন পরিবার। বাধ্য হয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব মানুষদের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিতে হচ্ছে।

তাদের একজন কহিনুর খাতুন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। বেশ আগেই মারা গেছেন স্বামী ইসমাইল হোসেন। বাড়ি সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে। যমুনার হিংস্র থাবায় এই নারী এ পর্যন্ত পাঁচবার স্থান ত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। যমুনা গিলে ফেলেছে তার বসতভিটা। বর্তমানে তার বসতভিটা পানিতে নিমজ্জিত। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে করে যতটুকু পেরেছেন, তাই নিয়ে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। আর বাঁধে কতদিন থাকতে হবে জানা নেই কহিনুর খাতুনের। যমুনার পানি বাড়ায় নিরাপদ আশ্রয় বাঁধে আসবাবপত্র নিয়ে ছুটছে মানুষ। 

সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনার ডান পাশে নির্মিত কর্ণিবাড়ি-কুতুবপুর-চন্দনবাইশা-রহদহ-কামলাপুর আট কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ধুনট উপজেলার যমুনাতীরবর্তী শহড়াবাড়ি থেকে মাধবডাঙ্গা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বানভাসি মানুষগুলো যার যার মতো করে যা পারছেন তাই নিয়ে বাঁধে এসে আশ্রয় গড়ে তুলছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, এখানকার চিত্রটা প্রত্যেক বছরের মতোই। বন্যা এলে ক্ষতিগ্রস্তদের সবাইকে নিরাপদে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। গৃহহীনরা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুই পাশ দিয়ে ঝুপড়ি ঘরে বানিয়ে চলেছেন। বাঁশ, কাঠের বাটাম, পলিথিন, দড়ি, লোহা, টিনসহ আনুসাঙ্গিক সামগ্রী ব্যবহার করে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এসব ঘর তৈরি করছেন বানভাসি মানুষগুলো। ঘরগুলো পরিসরে বেশ ছোট। এক ঘরেই সবাইকে ঠাসাঠাসি করে বসবাস করতে হবে। আবার কেউ কেউ এসব ঘরেই গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বসবাস করতে বাধ্য হন। সেখানে প্রস্রাব-পায়খানার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দেয়। এসব মেনেই বাধ্য হয়ে তারা বাঁধে কাটিয়ে দেন কষ্টের দিন-রাত। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যমুনার পানি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বসতবাড়িতে সেই পানি ঢুকছে। 

বাঁধে আশ্রয় নেওয়া চুনিয়াপাড়া গ্রামের গেন্দি বেগম বলেন, দীর্ঘ জীবন যমুনার সঙ্গে সংগ্রাম করে চলেছি। কিন্তু বয়স তো থেমে নেই। শরীরটা আগের মতো চলতে চায় না। কিন্তু যমুনার আশপাশে বসবাস করলে এমন বাস্তবতা না মেনে কোনো উপায় নেই। নইলে যমুনাকে চিরবিদায় জানাতে হবে। অনেক দূরে চলে যেতে হবে। কিন্তু সেই সামর্থ নেই। তাই যমুনার ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করেই হয়তো বাকি জীবনটা পাড়ি দিতে হবে। 

বগুড়া জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ১০২টি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় দুই হাজার পরিবার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা