kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

শিক্ষককে ডেকে এনে নগ্ন তরুণীর সঙ্গে ভিডিও ধারণ, মারধর করে চাঁদা দাবি

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১৪:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষককে ডেকে এনে নগ্ন তরুণীর সঙ্গে ভিডিও ধারণ, মারধর করে চাঁদা দাবি

ছোট বোনকে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে একজন স্কুল শিক্ষককে বাসায় ডেকে আনা হয়। এরপর ওই শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে বিবস্ত্র করে বাসায় থাকা এক নগ্ন তরুণীর সঙ্গে ওই শিক্ষকের আপত্তিকর দৃশ্যে ভিডিও ধারণ করা হয়। এরপর ইন্টারনেটে এই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকার করায়, সন্ত্রাসীরা ওই শিক্ষককে প্রচণ্ডভাবে মারধর করে। গুরুতর আহত ওই শিক্ষক এখন ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে সংঘটিত এই ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের আদালত পাড়ায় অবস্থিত কেরামত আলী টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার একটি ভাড়া বাসায়। ভাড়াটিয়ার নাম শিশু মিয়া।

আলোচিত এ ঘটনায় আহত নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে ভাড়াটিয়া শিশু মিয়া, তার ছেলে জুয়েল রানা ও টাওযারের মালিক ফারুক আহমেদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে নবীনগর থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনাটি এখন নবীনগরে টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিরা নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভকেশনাল (কারিগরি) শাখার গণিত বিভাগের ওই সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলামকে মারধর করে ও টাকা না পেয়ে এক পর্যায়ে ওই শিক্ষকের কাছ থেকে বাড়ির (যেখানে শিক্ষক থাকেন) চাবি নিয়ে আলমারি খুলে নগদ ৩০ হাজার টাকা সন্ত্রাসীরা নিয়ে যায়।

পরে ওই শিক্ষককে হাত পা বাঁধা অবস্থায় রাস্তায় ফেলে সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

এদিকে বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দার সন্তান শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়তে আসা একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যে কারণে এক বছর আগে সাবেক ইউএনও এই শিক্ষককে চিরতরে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ রাখাসহ বিদ্যালয়ের সাধারণ শাখায় কোন ক্লাশ নিতে পারবে না বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যান।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক  শাহ মো. ইয়াছিনুল হক এর সত্যতা নিশ্চিত করে আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, শিক্ষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ আছে।

তবে তিনি শিক্ষক নজরুলের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলায় ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এদিকে নবীনগর সদরে সংঘটিত এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনায় স্থানীয় সুশীল সমাজও উদ্বেগ প্রকাশ করে এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিবেক দেবনাথ আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা