kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

বগুড়ায় যমুনার পানি চুইয়ে ভাঙনঝুঁকিতে বাঁধ

রফিকুল আলম, ধুনট   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১২:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ায় যমুনার পানি চুইয়ে ভাঙনঝুঁকিতে বাঁধ

উত্তরে সোনাতলা উপজেলা। দক্ষিণে ধুনট উপজেলা। মাঝে সারিয়াকান্দি উপজেলা। হিংস্র যমুনার পানি ঠেকাতে বগুড়ার এই তিন উপজেলায় যমুনার পূর্বপাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৪৫ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত যমুনার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত শনিবার দুপুরে চলতি মৌসুমে বগুড়ায় প্রথম বিপৎসীমা অতিক্রম করে যমুনা নদীর পানি। পানি বাড়ার সাথে স্রোতও বেড়েছে। প্রবল চাপে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে সেই পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। ইঁদুরের গর্ত (র‌্যাটহোল) এবং দুর্বল অংশে পানি চুইয়ে (সিপেস) পড়ার কারণে বাঁধ ক্রমশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। লোকালয় অংশের (কান্ট্রি সাইড) চেয়ে নদীমুখ অংশের (রিভার সাইড) পানি প্রায় ৮ ফুট উচ্চতায় প্রবল বেড়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুর্বল বাঁধ ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যেকোনো পয়েন্টে বাঁধটি ভেঙে গেলে যমুনার প্লাবনে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাসহ, বগুড়া জেলার ধুনট, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, সোনাতলা, শেরপুর উপজেলাসহ বগুড়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বন্যাক্রান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, বাঁধের একাধিক পয়েন্টে ইঁদুর গর্তের সৃষ্টি করেছে। ওইসব পয়েন্ট দিয়ে পানি চুইয়ে অপর পাশে যাচ্ছে। এ কারণে বাঁধের ওইসব পয়েন্টগুলো জরুরিভাবে মেরামত করা হচ্ছে। বাঁশের পাইলিং করে বালিভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পানির লেভেল আর না বাড়লে বাঁধটি রক্ষা করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে পানির লেভেল আরো বেড়ে গেলে বাঁধ রক্ষা করা দুরূহ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে বাঁধ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পানির তীব্র গতির স্রোত বাঁধের পূর্বাংশের গোড়া থেকে মাঝ বরাবর প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারছে। ক্রমেই সেই ধাক্কার মাত্রা বাড়ছে। এতে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে চির দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ইঁদুরের সৃষ্ট গর্ত হয়ে পানি চলে আসছে বাঁধের পশ্চিমপ্রান্তে। সঙ্গে বাঁধের বালুও বেরিয়ে আসছে। এ কারণে সৃষ্ট গর্তগুলো সময়ের ব্যবধানে বড় আকারের ফুটোয় পরিণত হচ্ছে। ফলে বাঁধে আশ্রয় নেওয়া বন্যার্তদের মাঝে বাড়ছে আতঙ্ক। পাশাপাশি বাঁধের পশ্চিমপ্রান্তে গড়ে ওঠা জনপদের মানুষগুলোও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক জানান, বগুড়ার তিন উপজেলায় যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে ৪৫ কিলোমিটার। সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা, ছাতিয়ানতলা, সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ও কামালপুর এবং ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি, বানিয়াজান ও কৈয়াগাড়ি এলাকায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে ১৬ জুলাই রাত থেকে পানি চোয়ানো শুরু হয়েছে। ইঁদুরের অসংখ্য গর্ত থাকার পাশাপাশি প্রবল স্রোতের কারণে পানি চোয়ানো শুরু হয়েছে। পানি আটকানোর জন্য বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ঝুঁকি মোকাবেলা করতে সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। পুরো বাঁধ সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। বালুর বস্তা এবং জিও ব্যাগ দিয়ে পানি চোয়ানো বন্ধ করতে কাজ শুরু হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা