kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

মেঘনার ভাঙনে হাহাকার রায়পুরায়

মো. আব্দুল কাদির, রায়পুরা (নরসিংদী)    

১৮ জুলাই, ২০১৯ ১১:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেঘনার ভাঙনে হাহাকার রায়পুরায়

কয়েক দিন ধরে ক্রমাগত ভাঙন চলছে মেঘনায়। এরইমধ্যে বিলীন হয়েছে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের চরমধুয়া ও দরিহাটি গ্রাম দুটি। প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে নদীগর্ভে।

গত বছরেও এই ইউনিয়নে নদীভাঙনের শিকার হয়েছিল ২০০  ঘরবাড়ি। সেইসঙ্গে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ওই দু‌ই গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। চরম আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে এসব পরিবারের। 

উপজেলার চরাঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের মধ্যে নদী ভাঙনপ্রবন  ইউনিয়নগুলো হলো শ্রীনগর, চাঁনপুর, মির্জাচর ও চরমধুয়া। এসব  ইউনিয়নে গ্রাম রক্ষাবাঁধ না থাকায় বছরের পর বছর ধরে শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে মেঘনার প্রবল স্রোতে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, হাট-বাজার, আবাদি জমি, কবরস্থান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

ইউনিয়নের বাসিন্দারা গ্রাম রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এক দশকেও ভাঙন প্রবল এলাকায় বাঁধ নির্মাণে নেই সরকারি উদ্যোগ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেন এবং তাদের পুনর্বাসনে নেই কোনো উদ্যোগ।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত ইউনিয়নগুলোর পরিবারের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উৎকণ্ঠা। নতুন করে মেঘনার ভাঙনে ওই চার ইউনিয়নের অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা ও সহায় সম্বল হারিয়েছে।  খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে এসব পরিবারের সদস্যদের। কেউ আবার পরিবার পরিজন  নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পাশের গ্রামের নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে। ভাঙন আতঙ্কে আগে থেকেই অনেক টিনের ঘর অন্যত্র সড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে। সবকিছু হারিয়ে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই ও জীবিকার সন্ধানে শহরে পাড়ি দিচ্ছেন অনেকে।

কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা হলে এসব পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিন তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি মেঘনা নদীর ভাঙনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই সময় তারা কোনো ত্রাণ সামগ্রী পান না বলে অভিযোগ করেন। ইউনিয়ন রক্ষায় বাঁধ নির্মাণে দাবি জানান তারা।

মেঘনার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলার চরাঞ্চলের মির্জাচর ইউনিয়নের তিনটি প্রাইমারি স্কুল, দুইটি বাজার, দুইটি লঞ্চ ঘাট, ৯টি মসজিদ, একটি মন্দির ও তিনটি কবরস্থান। চাঁনপুর ইউনিয়নে একটি লঞ্চঘাট চাঁনপুর ও কালিকাপুর গ্রাম।শ্রীনগর ইউনিয়নে পলাশতলী ও ফকিরেরচর গ্রামের একাংশ এবং চরমধুয়া ইউনিয়নে চরমধুয়া ও দরিহাটি গ্রাম।

গত এক দশকে চাঁনপুরে ইমামদিরকান্দি ও শ্রীনগরের পলাশতলী গ্রাম দুটি নদীগর্ভে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। পলাশতলী গ্রামে কিছু মানুষের  বসতি থাকলেও ইমামদিরকান্দি গ্রামটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। ইমামদিরকান্দি গ্রামের প্রাইমারি স্কুলটি পরে পাশের মহিনীপুর গ্রামে সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।

চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম সিকদার বলেন,  নদীভাঙন এলাকা পরির্দশন করে গেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণের দাবিতে একালাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধন করেছি। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান। 

গতকাল বুধবার সকালে চরমধুয়ার নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে  আসেন নরসিংদী জেলা পানি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-সহকারী  প্রকৌশলী মো. সাহাব উদ্দিন আহমেদ ও রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক।

এ সময় প্রকৌশলী সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাঁধ নির্মাণের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা