kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

এইচএসসি ফল

আট বোর্ডে পাসের হারে চট্টগ্রাম সর্বনিম্নে

৭ বছরে জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে রেকর্ড
পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটিতেই ছেলেরা এগিয়ে

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০৩:১২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আট বোর্ডে পাসের হারে চট্টগ্রাম সর্বনিম্নে

দেশের আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে সাতটিই চট্টগ্রাম থেকে এগিয়ে রয়েছে। সারা দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার গড় পাসের হার ৭১.৮৫ শতাংশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাসের হার ৬২.১৯ শতাংশ। আট বোর্ডে সর্বনিম্ন ফল চট্টগ্রামের। 
 
চট্টগ্রামের এবারের পাসের হার গত বছরের চেয়ে দশমিক ৫৪ শতাংশ কম। তবে জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে এবার রেকর্ড গড়েছে এই বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
 
গতকাল বুধবার প্রকাশিত এইচএসসি ২০১৯ সালের চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফল পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করেন। 
 
ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছর এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬২.৭৩ শতাংশ। তা থেকে দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে এবারের পাসের হার ৬২.১৯ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। পাসের হার গতবারের থেকে সামান্য কমলেও এবার এক হাজার ২৪৭ জন বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল এক হাজার ৬১৩ জন শিক্ষার্থী। এবার পেয়েছে দুই হাজার ৮৬০ জন ছাত্র-ছাত্রী। বোর্ডের আওতাধীন চট্টগ্রাম মহানগর ও পাঁচ জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর ও খাগড়াছড়ি ছাড়া অন্য চার জেলায় পাসের হার কমেছে। এতে সামগ্রিক ফলে প্রভাব পড়েছে। 
 
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মেয়েদের পাসের হারে। ২০১৮ সালে যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৬৫.৮৭ শতাংশ, এবার তা ৬.৬৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯.২১ শতাংশে। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার গতবারের চেয়ে ৫.৬৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫.১১ শতাংশে।
 
আট শিক্ষা বোর্ডে সর্বনিম্ন পাসের হারের বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছরের চেয়ে পাসের হার দশমিক ৫৪ শতাংশ কম হলেও তা খারাপ বলা যাবে না। যদিও দেশের অন্য বোর্ডগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন। 
 
তিনি বলেন, ‘আমাদের বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পাসের হার কমেছে। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে খারাপ করেছে। এ ছাড়া দুই পার্বত্য জেলাসহ পাঁচ জেলায় পাসের হার কম হওয়ায় তা গড় পাসের হারে প্রভাব ফেলেছে। 
 
ফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের তুলনায় ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে পাসের হার কমেছে। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে ৩.০৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৩.১৩ শতাংশ পাসের হার কমেছে। মানবিক বিভাগে পাসের হার গত বছর ৫১.৬৯ শতাংশ হলেও এবার তা থেকে কমে ৪৮.৬৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গতবার ৬৮.০১ শতাংশ থেকে কমে এবার ৬৪.৮৮ শতাংশে এসেছে। তবে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬.৯৮ শতাংশ বেড়েছে। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮০.০৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭৩.১১ শতাংশ।
 
এদিকে ছেলেদের পাসের হার গতবারের চেয়ে বেড়ে এবার ৬৫.১১ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। গত বছর ছাত্র পাসের হার ছিল ৫৯.৪৭ শতাংশ। ছাত্রী পাসের হার গতবার ৬৫.৮৭ শতাংশ থাকলেও এবার তা কমে ৫৯.২১ শতাংশ এসেছে। পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতেও ছাত্ররা এগিয়ে গেছে। এবার এক হাজার ৪৪৮ জন ছাত্র এবং এক হাজার ৪১২ জন ছাত্রী জিপিএ ৫ পেয়েছে। 
 
গত বছরের তুলনায় শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এবার কমেছে। এই তালিকায় গত বছর পাঁচটি কলেজ থাকলেও এবার কমে চারটিতে এসেছে। এই চারটি হলো হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কোয়ান্টাম কসমোপলিটন কলেজ, ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ও সাউথপয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অন্যদিকে পাসের হার শূন্য থাকা একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি হলো নগরের ডবলমুরিং এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড মডার্ন কলেজ। এই কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করতে পারেনি।
 
চট্টগ্রাম বোর্ডের মধ্যে এবার চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৫.৩২ শতাংশ। জেলাগুলোর মধ্যে পাসের হার চট্টগ্রামে ৫৫.৬১ শতাংশ, কক্সবাজারে ৫৪.৩৯ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৪৯.৯৩ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৫৯.৭১ শতাংশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরসহ চট্টগ্রাম জেলার পাসের হার এবার ৬৫.৭৪ শতাংশ।
 
প্রকাশিত ফলে জানানো হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রামের অধীনে এ বছর ২৬০টি কলেজের ৯৯ হাজার ৭৯৬ জন পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৯৮ হাজার ৯২৬ জন। অনুপস্থিত ছিল ৮৭০ জন। একজন শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত এবং পরীক্ষায় সময় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার হয় ৫৪ জন। এবার মোট পাস করেছে ৬১ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান বিভাগে ১৮ হাজার ১০১ জন, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৫ হাজার ১৪২ জন ও মানবিকে বিভাগে ১৮ হাজার ২৮০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা