kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদ নিয়ে

কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়কসহ দুইজন বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়কসহ দুইজন বদলি

কক্সবাজার কারাগার (বাঁয়ে), জেল সুপার বজলুর রশিদ আখন্দ

কক্সবাজার জেলা কারাগারের বহুবিধ দুর্নীতি নিয়ে কালের কণ্ঠের অনলাইন ও মুদ্রণ সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে অবশেষে কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. বজলুর রশিদ আখন্দকে বদলি করা হয়েছে। তাকে বদলি করা হয়েছে দিনাজপুর জেলা কারাগারে। 
 
একই সঙ্গে বগুড়ার কারা তত্ত্বাবধায়ক মোকাম্মেল হোসনকে কক্সবাজার কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে বদলি করা হয়েছে। কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার কারা সুপারের অন্যত্র বদলির তথ্য স্বীকার করেছেন।
 
কক্সবাজার কারাগারের জেলার (কারা পরিদর্শক) রিতেশ চাকমা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, সেই সঙ্গে কক্সবাজার জেলা কারাগারের ডেপুটি জেলার অর্পণ চৌধুরীকেও বদলি করা হয়েছে যশোর সেন্ট্রাল কারাগারে।
 
গত ৮ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠের অনলাইন ও মুদ্রণ সংস্করণে ‘বন্দিরা ১৭০০ টাকা কেজি গরু ও ৬০০ টাকার মুরগির মাংস খাচ্ছেন’ শীর্ষক একটি তথ্যবহুল সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদের জের ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তারা আকস্মিক কক্সবাজার জেলা কারাগার পরিদর্শন করেন। দুদক কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের দুর্নীতির প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ হাতেনাতে সংগ্রহ করতে সমর্থ হন।
 
প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাজান আলীকে নিয়ে এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। পরবর্তীতে আরো কয়েকটি তদন্ত কমিটি কক্সবাজার কারাগারের দুর্নীতির বিষয়ে অবহিত হয়।
 
প্রসঙ্গত, কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, সারা দেশের কারাগারগুলোর মতো লাগামহীন অভিযোগ নয়- বরং কক্সবাজার কারাগারের অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনার মাত্রা একটু ভিন্ন মাত্রার। যেহেতু কারাগারটির ৪ সহস্রাধিক বন্দির মধ্যে শতকরা ৭০ জনই ইয়াবা কারবারি। ইয়াবা কারবারিদের আধিক্যের কারণেই এখানে যা ঘটছে তা প্রকাশিত সংবাদে মাত্র সামান্যটুকুই উল্লেখ করা হয়েছে।
 
কারাগারের জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি, তাদের স্বজনসহ সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যসহ অনেক দিনের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করেই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এমনকি মোটা অংকের বিনিময়ে কারাগারটির হাসপাতালের সিটে ঘুমান ইয়াবা কারবারি এবং সিটের নিচে থাকেন অসুস্থ বন্দি, ইয়াবা কারবারিদের মোবাইল ব্যবহার, হাজতিদের দিয়ে কারা অভ্যন্তরে দামি ফার্নিচার তৈরিসহ আরো হরেক রকমের অভিযোগ রয়েছে। 
 
কালের কণ্ঠে কারাগারের অনিয়ম সংক্রান্ত সংবাদটি প্রকাশের পর অগণিত পাঠক এবং ভুক্তভোগী মানুষ এখনো প্রতিনিয়ত প্রতিবেদকের কাছে নানা তথ্য প্রেরণ করছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা