kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

শতভাগ পাশ করেছে মাদরাসায়

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ায় এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ২২:৫২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ায় এইচএসসিতে ফলাফল বিপর্যয়

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির অধ্যুষিত উখিয়া ও টেকনাফের কলেজগুলোতে বুধবার প্রকাশিত এইচএসসি'র ফলাফলে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে। অথচ এলাকার মাদরাসাগুলোতে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে শতভাগ। সবচেয়ে মারাত্মক বিপর্যয় ঘটেছে উখিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। কলেজটির তিন বিভাগে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ৬৬৫ জন শিক্ষার্থী। পাশ করেছে মাত্র ১৫৪ জন। পাশের হার মাত্র ২৭%। এই কলেজটিই উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সীমান্তবর্তী এলাকার একমাত্র নারী শিক্ষক। প্রতিষ্ঠান উখিয়ার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের পাশের হার ৪৪%।  কলেজটিতে পরীক্ষার্থী ছিল ৪৭৬ জন, পাশ করেছে ২১০ জন শিক্ষার্থী। অথচ শতভাগ পাশ করেছে রুমখাঁ আলিম মাদরাসার পরীক্ষার্থীরা। মাদরাসাটিতে পরীক্ষার্থী ছিল ৫১ জন, পাশ করেছে ৫১ জন। তার পাশাপাশি রাজাপালং এমইউ ফাযিল (ডিগ্রী) মাদরাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৪৭ জন, পাশ করেছে ১৪২ জন পরীক্ষার্থী। পাশের হার ৯৭%।

টেকনাফ ডিগ্রী কলেজে পাশ করেছে শতকরা ৫১.৩০ জন। কলেজটিতে ৩৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৭৭ জন। তবে টেকনাফের হ্নীলা মঈনুদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমী কলেজে পাশ করেছে শতকরা ৭৪.২৪ জন। কলেজটিতে ১৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ৯৮ জন।

উখিয়ার কলেজগুলোতে ফলাফল বিপর্যয়ের ব্যাপারে অভিভাবকরা বলেছেন, শিক্ষার্থীরা রোহিঙ্গা শিবিরে বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি করার কারনে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। উখিয়ার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ উখিয়া বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল করিম বলেন- ‘কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মাঝে অধিকাংশ রোহিঙ্গা শিবিরে চাকরি করে। চাকরির কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস করতে পারেনি। এ কারণে তারা ফেল করেছে।’

তিনি আরো বলেন, উখিয়া কলেজের কমপক্ষে শতকরা ৪০ ভাগ শিক্ষার্থী বর্তমানে  এনজিওতে চাকরি করছে। অথচ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এনজিওতে চাকরি না করায় তারা ভার ফলাফল করেছে।

উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় এনজিওতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছিলেন, যে সমস্ত ছেলে/মেয়েরা পড়ালেখায় অধ্যায়নরত আছে তাদেরকে চাকরি না দিয়ে স্থানীয় বেকার ছেলে/মেয়েদের চাকরি দিতে অনুরোধ করেছিলেন।

কেননা তাদেরকে যদি চাকরি দেওয়া হয় তাহলে ভবিষ্যতে মেধাশূন্য হয়ে পড়তে পারে উখিয়া। তার এই বক্তব্যই আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা