kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

অবশেষে কোহিনূরের মেরুদণ্ড থেকে বের করা হলো দুটি রড

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ২০:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে কোহিনূরের মেরুদণ্ড থেকে বের করা হলো দুটি রড

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের অসুস্থ সেই কোহিনূরের মেরুদণ্ড থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি রড বের করে আনা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে কোহিনূরের মেরুদণ্ডে সফল অস্ত্রোপচার করেন হাসপাততালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের প্রধান ডা. শাহ আলম।

কোহিনূর বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের দ্বিতীয় তলায় ২০৬ নম্বর কক্ষে সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোহিনূরের চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়া 'ডু সামথিং ফাউন্ডেশন' এর প্রেসিডেন্ট ডা. নাজমুল ইসলাম।

২০১৫ সালের গোড়ার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের বাপ-মা হারা এতিম কোহিনূর (১৬) পিঠের ব্যাথায় মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে, গ্রামবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় ঢাকায় এনে তার মেরুদণ্ডে দুটি রড লাগানো হয়।

এরপর বাড়ি ফিরে গত চার বছর ধরে অসুস্থ শরীর নিয়ে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষে করে ছয় বছর বয়সী একমাত্র ভাইটিকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে থেকে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

সম্প্রতি মেরুদণ্ডের ব্যাথা আবারও তীব্র আকার ধারণ করলে, কোহিনূর আবারও শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। এসময় তার মেরুদন্ডে লাগানো দুটি রড দুইদিক থেকে বের হয়ে পিঠে মারাত্মক পচন ধরে।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে, কোহিনূরের এই মানবিক ঘটনাটি নবীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুমের নজরে আসে।

পরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে কোহিনূরকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে ঢাকার 'ডু সামথিং ফাউন্ডেশনে' পাঠান।
সেখানে ফাউন্ডেশনের দুই সদস্য ডা. কাজী আয়েশা সিদ্দিকা বর্ণা ও ডা. হাসান মাহমুদের তত্বাবধানে কোহিনূরকে ঢাকা মমেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

সেখানে গত দুই সপ্তাহ কোহিনূরের যাবতীয় দেখভাল ও পরীক্ষা নীরিক্ষা করে অবশেষে আজ তার মেরুদন্ডে সফল অস্ত্রোপচার করেন অধ্যাপক ডা. শাহ আলম। 

ডু সামথিং ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ডা. নাজমুল ইসলাম আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, কোহিনূরের মেরুদন্ডে আজ সফল অস্ত্রোপচার করে তার পিঠ থেকে দুটি রড বের করে আনা হয়েছে। বর্তমানে কোহিনূর সুস্থ রয়েছেন। কয়েকদিন পর তার আরেকটি অস্ত্রোপচার হবে। আশা করছি, এরপরই কোহিনূর বাড়ি ফিরে যেতে পারবে।

এদিকে কোহিনূরকে সুস্থ করে তোলার মূল উদ্যগী নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, কোহিনূর সুস্থ হয়ে নবীনগরে ফিরলে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে  তার জন্য সরকারি খাস জায়গা বন্দোবস্ত দেয়াসহ তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই ভাঙা মেরুদণ্ড নিয়ে লড়ছিল কোহিনূর, পাশে দাঁড়ালেন নবীনগর ইউএনও শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন কালের কণ্ঠে ছাপা হয়েছিলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা