kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

উলিপুরে দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উলিপুরে দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার্ত মানুষেরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলেও বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও গবাদী পশু নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি। বন্যা দুর্গতরা শুকনো খাবারের জন্য হাহাকার করছেন।

উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যাকবলিত এলাকার জন্য জেলা থেকে প্রাপ্ত ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৪৫ মে. টন জিআর চাল, ৭০টি তাবু বিতরণ করা হয়েছে। আরো ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে বন্যার্ত মানুষের অভিযোগ অধিকাংশ এলাকায় এখন পর্যন্ত ত্রাণ পৌঁছেনি।

বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের বানভাসী নজির আলী (৬৫), আবুল হোসেন (৫১), মোনছার আলী (৭০), আজম (৪৫), কোব্বাস মিয়া (৫৫), হাতিয়া ইউনিয়নের আব্দুল হাকিম (৪২), রফিক মিয়া (৩৫), মোসলেহা (২৮), ধনরাজ দাস (৬৮) ও সুফিয়া বেগম (৪৫)সহ অনেকে জানান, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় আছি। শুকনো খাবার যা ছিল তা শেষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, তার ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বুধবার পর্যন্ত ৫০০ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, এ ইউনিয়নে ৭/৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি। এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বিতরণ করতে পারিনি। ৪ মে. টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি যা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৫০০ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে।

বজরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজাউল করিম আমীন বলেন, নয় থেকে দশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ সব পানিবন্দি মানুষের জন্য মাত্র সাড়ে ৫ মে. টন চাল বরাদ্দ পেয়েছি। এ চাল সাড়ে পাঁচ শ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা যাবে। এটা লজ্জার ব্যাপার। সবাই ত্রাণ চাচ্ছে। বন্যার্তরা শুকনো খাবারের প্রতি আকৃষ্ট বেশি কিন্তু আমার ইউনিয়নে শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। প্রায় একই অবস্থা উপজেলার বন্যাকবলিত ১৩টি ইউনিয়নে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ত্রাণ কর্মকর্তা (অ. দা.) সিরাজউদ্দৌলা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ না পেলে এ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ যা পাওয়া যাচ্ছে তা সাথে সাথেই জনপ্রতিনিধের অনুকূলে দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের জানান, বন্যার্তদের মাঝে ৪৫ মে. টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৯০০ পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণের জন্য প্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা