kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু বেনাপোল এক্সপ্রেসের

জামাল হোসেন, বেনাপোল থেকে   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৫০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু বেনাপোল এক্সপ্রেসের

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান শেষে আনন্দঘন পরিবেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্বোধনের পর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বেনাপোল-ঢাকা রুটে দেশের প্রথম প্রতিবন্ধি বান্ধব বিরতিহীন ট্রেন ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’। এর আগে বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে আন্তঃনগর ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাঁশিতে ফু দিয়ে এবং সবুজ পতাকা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন। ঢাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন। এছাড়া রেলপথ উন্নয়নের ওপর একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। 

বেনাপোল এক্সপ্রেস উদ্বোধন উপলক্ষে সকাল থেকে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকা হতে শত শত লোক মিছিল সহকারে বেনাপোল রেলস্টেশনে এসে জড়ো হয়। পুরো রেলস্টেশনটি জনসমুদ্রে রুপ নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ট্রেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার সাথে সাথে করতালিতে ও বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রেলস্টেশন এলাকা। রেলওয়ে স্টেশন বর্ণিল সাজে সাজানো হড। প্ল্যাটফর্মের ওপরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হরেক রকম ফুল দিয়ে গোটা ট্রেনটি সাজানো হয়েছে নান্দনিক সাজে।

উদ্বোধণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে সরাসরি সংযুক্ত হন যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হোসাইন মোহাম্মদ শওকত, বেনাপোলের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আলী কদর সাগর ও বেনাপোল হাইস্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী তনু আফসানা সাদ। তারা নতুন এই ট্রেনটি উদ্বোধন করায় এলাকার জনসাধারন ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দুরের যাত্রীদের সুযোগ সুবিধার ও কৃতজ্ঞতার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসিমুখে তাদের ধন্যবাদ জানান। আগামীতে পদ্মাসেতু নির্মাণ হলে বেনাপোলে আরও একটি ট্রেন চলাচলের আশ্বাস দেন। সেই সাথে বেনাপোল বন্দরকে আরো আধুনিয়কায়ন করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। 

ট্রেনটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাংসদ মেজর জেনারেল (অব.) ডা: নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো: শামসুজ্জামান ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ক্যারেজ সংগ্রহ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, রাজশাহী জোনের সিগন্যাল এন্ড টেলিকমিউনিকেশন চীফ ইঞ্জিনিয়ার অসিম কুমার তালুকদার, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী, যশোরের পুলিশ সুপার মঈনুল হক, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামানসহ রেল ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সুত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রেনে ব্রড গেজ কোচসমূহ এডিবির অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটার গেজ ও ব্রড গেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ইন্দোনেশিয়া থেকে সংগৃহীত হয়েছে। দ্রুতগতির এ ট্রেন পরিচালনার ফলে বেনাপোল-ঢাকা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী যাত্রীসাধারণের নিরাপদ আসা-যাওয়া সহজতর, দ্রুততর ও আরামদায়ক হবে। সংগৃহীত কোচসমূহের অন্যতম নতুন বৈশিষ্ট্য হলো বায়ো-টয়লেট সংযোজন। ট্রেনটিতে প্রতিবন্ধি যাত্রীদের হুইলচেয়ারসহ চলাচলের সুবিধার্থে থাকছে প্রশস্ত দরজা (মেইন ও টয়লেট দরজা) এবং নির্ধারিত আসনের সুবিধা। যাত্রীসাধারণের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত চেয়ার, বার্থ, স্টেয়ার, পার্সেল র‌্যাক, টিভি মনিটর হ্যাংগার, ওয়াই-ফাই রাউটার হ্যাংগার, মোবাইল চার্জারের ব্যবস্থা রয়েছে। 

‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ১২টি কোচ দ্বারা চলবে। ট্রেনটিতে এসি সিট, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণির সর্বমোট ৮৯৬টি (৭৯৫ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রে) এবং এসি বার্থ, এসি চেয়ার ও শোভন চেয়ার শ্রেণির সর্বমোট ৮৭১টি (৭৯৬ নম্বর ট্রেনের ক্ষেত্রে) আসনের ব্যবস্থা থাকবে। বেনাপোল ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন (৭৯৫) বুধবার ও (৭৯৬) বৃহস্পতিবার। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ছাড়বে দুপুর ১টায়, ঢাকায় পৌঁছবে রাত ৯টায় এবং ঢাকা থেকে ছাড়বে রাত ১২টা ৪০ মিনিটে, বেনাপোল পৌঁছবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। বেনাপোল থেকে ঢাকা শোভন চেয়ারের টিকিটের মূল্য ৪৮৫ টাকা, এসি (শীতাতপনিয়ন্ত্রিত) চেয়ার ৯৩২ টাকা, এসি সিট এক হাজার ১১৬ টাকা ও এসি কেবিন এক হাজার ৬৭৪ টাকা।
উদ্বোধন শেষে বেলা সোয়া একটায় ‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ট্রেনটিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামানের নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বেনাপোল থেকে ১০৪টি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে বেনাপোল রেলষ্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানিয়েছেন।

প্রথম ট্রেনের যাত্রী নাভারনের ছাত্রলীগ নেতা রুমেল সরদার, মোখলেছুর রহমান ও বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, এটি একটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ। পরিবহনের (বাস) চেয়ে ট্রেনে যাতায়াত নিরাপদ ও আরামদায়ক। ট্রেনে যাতায়াত করতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এই ট্রেনের যাত্রী হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। সেই সাথে তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে সাধুবাদ জানান। বেনাপোলের বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, ইতিহাসের স্বাক্ষী হতেই এই ট্রেনের যাত্রী হয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা