kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

পুড়িয়ে দিয়েছে প্রাইভেটকার

ছেলেধরা সন্দেহে তিন প্রতারককে গণপিটুনি, চমেক ভর্তি

হাটহাজারী প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ০২:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলেধরা সন্দেহে তিন প্রতারককে গণপিটুনি, চমেক ভর্তি

ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ছেলে ধরা সন্দেহে তিন প্রতারককে গণপিটুনি এবং একটি প্রাইভেট কার পুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার ছিপাতলী ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত তিন প্রতারক বর্তমানে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তারা হলেন- চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানার আদু নগর গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়ির মৃত রাজা মিয়ার ছেলে আব্দুল মালেক (৬০), একই থানার পদুয়া মৌলভিপাড়ার লালুর বাপের বাড়ির মৃত মো. ইসমাইলের ছেলে চালক নুর কবির (২৮) ও আদু নগর গ্রামের সাহি পাড়া জুনু সিকদার বাড়ির মৃত আব্দুল হাইয়ের পুত্র নুরুল ইসলাম (৬০)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে একটি প্রাইভেটকারযোগে মালেক, নুর, কবির ও অজ্ঞাতনামা এক যুবক হাটহাজারী উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন। তারা অজ্ঞাতনামা এক নারীকে কথিত রাজমোহনী তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে কৌশলে কানের দুল, স্বর্ণালংকার বোকা বানিয়ে নকল স্বর্ণের বার দিয়ে ছয় (৬) হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। 

শুধু তাই নয় তারা একটি দরবারের নাম বিক্রি করে আওলাদও দাবি করে। টাকা নেওয়ার পর প্রতারণার স্বীকার ওই নারীকে পেছনে না তাকিয়ে সামনের দিকে চল্লিশ (৪০) কদম হাঁটতে বলে। ভুক্তভোগী মহিলা চার/পাঁচ কদম হেঁটে পেছনে তাকিয়ে দেখে চক্রটি প্রাইভেট কার নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ওই নারী চিৎকার দিলে নিজেদের প্রাইভেটকারযোগে প্রতারকরা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক হয়ে ইছাপুর বাজার দিয়ে উত্তর দিকে পালিয়ে যেতে থাকে।

এ সময় কিছু যুবক মোটরসাইকেলযোগে তাদের পিছু নিয়ে ধাওয়া করে ছিপাতলী ইউনিয়ন পরিষদ রোডস্থ বড় হুজুর বাড়ি এলাকায় প্রতারকদের বহনকারী গাড়িটি আটক করে। পরে ছিপাতলী বোয়ালিয়া মুখ এলাকায় তাদেরকে এনে ছেলেধরা ও কল্লাকাটা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসি। এ সময় উত্তেজিত জনতা প্রতারকদের ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো গ- ১৩-৮৬৪০) ধআগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানার এস আই জাহাঙ্গীর মোল্লার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতা থেকে প্রতারকদের  উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গুমানমর্দ্দন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় উত্তেজিত জনতা থেকে তিন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকারী হাটহাজারী মডেল থানার এসআই জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার তিনজনেই প্রতারক। সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারীদের বোকা বানিয়ে নকল সোনার বার দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়াই মূলত তাদের কাজ। তারা প্রতারণার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তিনজনকেই আশংকাজনক অবস্থায় চমেক ভর্তি করা হয়েছে। প্রতারণার স্বীকার নারী মামলা করবে বলে জানালেও এখনো পর্যন্ত আসেনি।

জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, গণপিটুনির শিকার তিনজনই চট্টগ্রাম মেডিক্যালে ভর্তি আছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা