kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বড়লেখায় আকস্মিক বন্যায় হাকালুকি

হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ১২ স্কুল বন্ধ ঘোষণা

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ০২:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, ১২ স্কুল বন্ধ ঘোষণা

ছবি: কালের কণ্ঠ

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌলভীবাজারের বড়লেখার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়িঘরসহ ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিমজ্জিত হয়েছে। গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাঠদান বন্ধ হওয়া বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- বড়লেখা উপজেলার মুর্শিদাবাদকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুটাউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঘমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কটালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রী রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঠনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবিজুরীপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভোলারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিজ মিঞা মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বলেন, ‘১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিমজ্জিত হয়েছে। সোমবার থেকে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি না কমা পর্যন্ত এভাবে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বাচ্চাদের জন্য ঝুঁকি নিচ্ছি না।’ 

এছাড়া বন্যায় সুজানগর ইউনিয়নের বাড্ডা, রাঙ্গিনগর, দশঘরি, ভোলারকান্দি, পাঠনা, চরকোনো, কটালপুর, তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা, আহমদপুর, কুটাউরা, শ্রী রামপুর, নুনুয়া, পাবিজুরিপার, গগড়া, বড় ময়দান, মুর্শিদাবাদকুরা, তেলিমেলি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার গ্রামীণ রাস্তাগুলো নিমজ্জিত হওয়ায় লোকজন নৌকা করে যাতায়াত করছেন।

তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বলেন, ‘ঢেউয়ে খুব যন্ত্রণা দের। ঢেউয়ে নিচের মাটি সরে বাড়িঘর ফেলে দেয়। রাতে ঢেউ উঠে। তখন মানুষ আতংকে থাকে। পানি যদি আর বাড়ে তবে মানুষের বেশি কষ্ট হবে।’ 

বড়লেখা উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি বাড়লে মানুষ যেন দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন, সে জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৯টি আশ্রয় কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- উপজেলার বর্নি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাংগাউটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আজিমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বিতীয়ারদেহী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দাশেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকাহালী উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে বন্যা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ খান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন, তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস প্রমুখ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়েদ উল্লাহ খান মঙ্গলবার বলেন, ‘রবিবার (১৪ জুলাই) থেকে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ ওঠেনি। ওঠার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। পানি একটু বাড়লে ভোলারকান্দি গ্রামের লোকজন সবার আগে উঠতে হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ উদ্দিন মঙ্গলবার বলেন, ‘নিচু এলাকার বেশ কয়েকটি স্কুলে পানি ঢুকেছে। প্রতি বছর ওগুলোতে পানি ঢুকে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আমিসহ বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেছি। কয়েকটি গ্রামীণ রাস্তায় পানি ওঠেছে। আজকে যেহেতু রোদ উঠেছে। পানি বাড়ছে না। ধারণা করছি বৃষ্টি না হলে বুধবার থেকে পানি কমতে শুরু করবে। পানি না বাড়লে আর ঝুঁকি নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা