kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বুড়িগঙ্গার তীরে উচ্ছেদ অভিযান

কবরস্থানের নামে জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ০১:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবরস্থানের নামে জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর চারপাশ ঘিরে থাকা নদীতীর দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী কেরানীগঞ্জ এলাকায় বহুতল ভবনসহ প্রায় অর্ধশত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবমুক্ত করা হয়েছে তিন একর জায়গা। 

এ ছাড়া অভিযানে ৭৮ লাখ টাকার মালপত্র জব্দ করে নিলামে তোলা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে বাধাদানের অভিযোগে সাতজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) এ অভিযান পরিচালনা করছে। 

সংস্থার যুগ্ম পরিচালক (বন্দর) এ কে এম আরিফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নদীর জায়গা নদীকে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছি। নদীর জায়গা দখল করতে কবরস্থানের নামে অভিনব উপায়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযানকালে সাততলা ভবনের পাশে দ্বিতল ভবন ভেঙে দেখা যায় সেখানে মুর্দার গোসল ও নামাজের জায়গা বলে সাইনবোর্ড দেওয়া। প্রকৃতপক্ষে সেটি মালপত্র রাখার গোডাউন। নদী দখলকারী যত ক্ষমতাবান হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর নিচ থেকে দোলেশ্বর খেয়াঘাট পর্যন্ত নদীর দক্ষিণ প্রান্তে দিনভর অভিযান চলে। গতকাল ভাঙা হয়েছে সর্বমোট ৪৪টি স্থাপনা। ভাঙা পড়েছে একটি সাততলা, পাঁচটি একতলা ও ১৭টি আধাপাকা ভবন। এ সময় ২১টি টিনের ঘর উচ্ছেদ করা হয়। অবমুক্ত করা হয়েছে তিন একর তীরভূমি। অভিযানকালে ৭৮ লাখ টাকার মালপত্র নিলামে বিক্রি হয়।

কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় বাধাদানসহ তর্কে লিপ্ত হওয়ায় সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁরা দুটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে ও দুজনকে দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অভিযানকালে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা ইটভাটাসহ ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করা হয়। 

সাবেক এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবনের পাশে দেখা যায় বড় করে লেখা ‘মহিলাদের কবর জিয়ারত ও কোরআন পড়ার স্থান’। দোতলা এ ভবনের দরজা ভেঙে ভেতরে দেখা যায় সেটি গোডাউন। দখলের জন্য ধর্ম ও সামাজিক কর্মের সাইনবোর্ড ব্যবহারের এ তৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন উচ্ছেদসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘নদীর তীর দখলকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ জরিমানা ও নিলামে মালপত্র বিক্রির টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

গত ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে দেড় শ একর জমি। এ ছাড়া সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার মালপত্র নিলামে বিক্রি হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা