kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে নতুন খাল খনন

অবশেষে গতি এসেছে প্রকল্পে

• প্রায় ১২৫৭ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকার এরই মধ্যে ৯১৪ কোটি টাকা দিয়েছে।
• চলতি মাসে দরপত্র, আগামী জুনের আগে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যাশা। আগামী বর্ষায় নগরের বড় একটি অংশে সড়কে জলাবদ্ধতা থাকবে না।

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবশেষে গতি এসেছে প্রকল্পে

বন্দরনগর চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন খাল খনন প্রকল্পে অবশেষে গতি এসেছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পে ৮৫১ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। এর আগে সরকার দিয়েছিল ৬৩ কোটি টাকা। চলতি মাসে প্রকল্পের দরপত্র কার্যক্রম শুরু হবে। প্রকল্পটিতে ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

২০১৪ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অর্থাভাবে ভূমি অধিগ্রহণ না হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। গত সাড়ে বছরে প্রকল্প ব্যয় প্রায় চার গুণ বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে সরকার থেকে ৮৫১ কোটি টাকা পাওয়ার পর তা ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে দেওয়া হয়েছে।

নগরের বহদ্দারহাট এলাকার বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত ২ দশমিক ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৬৫ ফুট প্রস্থ নতুন খাল খনন প্রকল্পের মূল কাজ সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম দিকে শুরু হবে বলে প্রকল্প পরিচালক চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম গত সোমবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী বছরের জুন মাস প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ সময়সীমা। আগামী সপ্তাহে আমরা দরপত্রের কার্যক্রম শুরু করব। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় দুই মাস লাগতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন আর অর্থের সমস্যা নেই। প্রকল্পে অর্থ জোগান দেবে ৭৫ শতাংশ সরকার ও ২৫ শতাংশ চসিক।’

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সরকার থেকে পাওয়া ৮৫১ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে দিয়েছি। এর আগের সরকার থেকে আরো ৬৩ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। সেখান থেকে ৬০ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণে দেওয়া হয়। অন্য তিন কোটি টাকা প্রকল্পের জন্য ইকুইপমেন্ট কেনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দরপত্রের পর মূল কাজ শুরু হলে আগামী জুনের আগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাবে। আশা করি, আগামী বর্ষায় এই প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে।’

জানা যায়, খাল খননের নতুন প্রকল্পে খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। খালের উভয় দিকে ২০ ফুট করে সড়ক ও ৬ ফুট করে ওয়াকওয়ে থাকবে। গত বছরের শেষ দিকে সংশোধিত এই প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদন পেলেও এত দিন অর্থাভাবে গতি পায়নি। 

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা জানান, বহুপ্রতীক্ষিত এই প্রকল্প আগামী জুনের আগে বাস্তবায়িত হলে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, পূর্ব ষোলশহর, পূর্ব বাকলিয়া, পশ্চিম বাকলিয়া, কাপাসগোলা, বাদুরতলাসহ আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা থাকবে না। বৃষ্টি হলেই এসব এলাকায় প্রধান সড়কসহ আশপাশের এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
চসিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ১৯৯৫ সালে যে ড্রেনেজ মাস্টারপ¬্যান প্রণয়ন করেছিল তাতে তিনটি খাল নতুন খননের প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে একটি বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত। অন্য দুটি হলো নয়াখাল থেকে শীতলঝর্ণা এবং মুরাদপুর থেকে বহদ্দারহাট। পরে ২০ বছরের মধ্যে ওই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

২০১৪ সালে নগরের বহদ্দারহাটসহ আশপাশে প্রধান সড়ক-উপসড়ক ও এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে সরকার বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্ষন্ত একটি নতুন খাল খননের জন্য ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে প্রয়োজনীয় অর্থ না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১৫ সালে চসিকের মেয়র হওয়ার পর থেকে আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। খাল খননের সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৫৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। সংশোধিত প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়।

দীর্ঘ দুই যুগ পর নগরে নতুন একটি খাল খনন শুরু হতে যাওয়ায় আশার সঞ্চার হয়েছে মানুষের মাঝে। প্রকল্পটিতে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ এক হাজার ১০৩ কোটি টাকা এবং স্থাপনা বাবদ ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। বাকি টাকা ব্যয় হচ্ছে খাল খননসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে। খালের গভীরতা ১২-১৩ ফুট হতে পারে। ওয়াকওয়ে ও সড়কের কারণে খালপাড় দখল হবে না। ছয়টি সেতু এবং নদীর মুখে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের আওতায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা