kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

সাপাহারে জমে উঠেছে চারাগাছের মৌসুমি হাট

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৭:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাপাহারে জমে উঠেছে চারাগাছের মৌসুমি হাট

চলতি বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জমে উঠেছে চারাগাছ কেনা-বেচার মৌসুমি হাট। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির চারাগাছ অতি সহজমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা বরেন্দ্র ভূমি হওয়ার কারণে এখানে বর্ষার পানি ওঠে না তাই এলাকায় বাগানে গাছের চারা লাগানোর সময় এখন। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিষদরে অদূরে বসছে এই চারাগাছের মৌসুমি হাট। এখানে ফলদ, বনজ, ওষধি ও ফুল গাছের চারা দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। 

এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিদেশি প্রজাতির আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ দেশি জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং নিমসহ ওষধি গাছের চারা বিক্রি হতে দেখা গেছে। 

উপজেলা সদরের অদূরে অবস্থিত এই বিশাল চারার হাটে প্রায় ৪০/৫০টি চারাগাছের দোকান রয়েছে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার চারাগাছ বেচাকেনা হয়। 

চারাবিক্রেতা রিপন, সালাম ও শরিফুল জানান এবারে উপজেলার এ মৌসুমি চারার হাটে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিড় লক্ষ করা গেছে। প্রতিদিন তারা আম বিক্রি করে এই হাট থেকে আম্রপালি, গৌরমতি, বারী ৪, খিরশাপাতি, নাক ফজলি, আর্শিনা ও বারমাসি কাঠিমন জাতের আমের চারা, চায়না থ্রি লিচু ও থাই হাইব্রিড নারিকেল গাছের চারা বেশি ক্রয় করছে। আকাশমনি, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ অন্যান্য বনজ গাছের চারা ২০/২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে ও ফলদ গাছের চারা যেমন আম্রপালি চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬৫ টাকা কাঠিমন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, আর্শিনা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বারী ফোর ৭৫ থেকে ৮০ টাকা করে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ বছর বাজারে আমের দাম খুব ভালো থাকায় কৃষকগণ নতুন নতুন বাগান তৈরিতে ঝুঁকে পড়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর সবধরনের গাছের চারার দাম একটু হলেও বেশি।

সাপাহার ও তার আশে পাশের নার্সারি মালিকগণ তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ এই হাটে বেচাকেনা করছে। এ ছাড়া রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলা থেকে চারা ব্যবসায়ীরা ট্রাকে করে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার চারা গাছ এনে এ উপজেলার মৌসুমি হাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে রেখে বিক্রি করছে।

বাজারে বেশ কয়েকজন চারা ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, সাপাহার অঞ্চলের লোকজন বনজ জাতের চারা গাছ লাগানোর চাইতে ফলদ জাতের চারা গাছ বিশেষ করে আমগাছের চারা রোপণের ব্যাপারে খুবই উৎসাহী।

সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় জলবায়ুর কারণে ধানের চাইতে আম চাষে কৃষক বেশি লাভবান হচ্ছে। বিশেষ করে এ উপজেলার উৎপাদিত সুমিষ্ট রসালো ফল আম বর্তমানে দেশের সর্বত্র বিশেষভাবে খ্যাতি অর্জন করেছে। আম বাগান তৈরি করে এরই মধ্যে অনেক কৃষকের ভাগ্যে বদলে গেছে। উপজেলা উপসহকারী উদ্ভীদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আতাউর রহমান সেলিম জানান, উপজেলার সদরের অদূরে স্থাপিত ওই চারার হাটে বিভিন্ন প্রজাতীর আমের চারার সমাহার দেখে এ উপজেলার লোকজনের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এখানে এসে আমের চারা সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে এই উপজেলায় ৫৫০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান তৈরি হয়েছে। আম এ উপজেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখছে। তাই সব মিলিয়ে সাপাহার উপজেলার সর্বস্তরের কৃষকদের মাঝে আম চারা রোপণে ব্যাপক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা