kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

ধামইরহাট-পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৬:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাল্টা চাষে সফল নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার

নওগাঁর ধামইরহাটের বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা চাষ করে সফলতা পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা রিনা আক্তার। তার বাগান এখন ফলে ফলে ভরে গেছে। বাজারে ভালো দাম পেলে তিনি অনেক মুনাফা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। 

জানা গেছে, উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের অন্তর্গত আঙ্গরত তেলিপাড়া গ্রামের পাকা রাস্তার পার্শে মায়া কানন (বায়ো এগ্রি ফার্ম) নামে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন নারী উদ্যোক্তা রিনা। কৃষিবিদ পরিবারে বেড়ে ওঠা রিনার ছোটবেলা থেকে কৃষির প্রতি বিশেষ আগ্রাহ ছিল। বিশেষ করে ফল বাগান গড়ে তোলার তার স্বপ্ন ছিল। গ্রাজুয়েশন করার পর চাকরি না হওয়ায় তিনি হতাশ না হয়ে নেমে পড়েন ফল বাগান করতে। তার নিজ হাতে গড়ে তোলেন মায়া কানন। 

এ ব্যাপারে রিনা আক্তার বলেন, ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. জামাল উদ্দিন ও বর্তমান কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজার সার্বিক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমি ৫০ শতাংশ জমিতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ১ বছর বয়সী উন্নত মানের মাল্টা চাষ শুরু করি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ১০ ফুট পর পর চারা গাছ রোপণ করা হয়। মোট ১৩৬টি চারা গাছ রোপণ করেন তিনি। পরের বছর গাছে ফুল আসলেও তা ভেঙে দেওয়া হয়। এ বছর গাছে পর্যাপ্ত ফুল আসে এবং অসংখ্য ফল ধরে। বর্তমানে প্রতিগাছে প্রচুর পরিমাণে ফল ধরেছে। আশা করা যাচ্ছে প্রতি গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া যাবে। আগামী আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছ থেকে ফল নামানো শুরু হবে। বাজারে বর্তমানে পাইকারি মাল্টা ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী ১০০ টাকা কেজি হলে প্রতি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে যার দাম হবে ১ হাজার টাকা। সেই হিসেবে ১৩৬টি গাছ থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তবে এবার মাল্টা বিক্রি করে লাভের আশা দেখছেন। 

রিনা আক্তার আরো বলেন, প্রতিটি চারা গাছ তিনি ১৫০ টাকা দর হিসেবে ২০ হাজার ৪ শ টাকায় কিনেছেন। এ ছাড়া শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য বাবদ মোট ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। তিনি  মাল্টা বাগান গড়ে তুলতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি আশা করছেন এ বছর তিনি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা মাল্টা বিক্রি করবেন। পরে বছর দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন। 

ধামইরহাট উপজেলার সাবেক কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ধামইরহাটের মাটি যেকোনো ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলের মানুষ শুধু ধান চাষে ব্যস্ত থাকে। বর্তমানে ধান চাষে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে এলাকার চাষিদের লাভজনক ফল বাগানে চাষে উদ্বৃদ্ধ করা হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা বলেন, রিনা আক্তারকে মাল্টা চাষপদ্ধতি সম্পর্কে সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তার বাগানে মাল্টার প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া উন্নতমানের মাল্টা চারা বারি ১ সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা