kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

অন্যগুলোর দামে আগুন, কাঁচামরিচ তো 'রাজা'

লিমন বাসার, বগুড়া    

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



অন্যগুলোর দামে আগুন, কাঁচামরিচ তো 'রাজা'

আগুন দাম। কাঁচা মরিচে হাত দেওয়াই যাচ্ছে না। ১৫ দিন আগেও যে মরিচ ২০ টাকা কেজিতে কাউকে গছানো যেত না, সেই কাঁচা মরিচ এখন বগুড়ার বৃহত্তম সবজি মোকাম মহাস্থানহাটের ‘রাজা’ বনে গেছে। ১০০ টাকার চকচকে একটি নোট হাতে তুলে দিয়ে এক কেজি কাঁচা মরিচ চাইলেও চাষির মন বেজার! শুধু কি কাঁচা মরিচ, সব সবজিরই এক হাল। টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার সবজিক্ষেত পানিতে ডুবে আছে। গাছে ধরেছে পচন, নষ্ট হয়ে গেছে ফসল। যেসব ক্ষেতে সবজি ছিল, তা-ও অনেক চাষি পানি ঢোকার আগে মাঠ থেকে তুলতে পারেনি।

মহাস্থানহাটে ১৫ দিন আগে যে সবজির দাম গড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি ছিল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০। প্রকারভেদে কোনো কোনো সবজির দাম দেড় থেকে দুই গুণও বেড়েছে। পাইকারি সবজি বাজারের এমন ছবির চেয়ে খুচরা বাজারের দরদাম আরো বেসামাল। খুচরা বাজারে সবজি প্রতি কেজিতে আরো ১০ থেকে ২০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।

বগুড়ার পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি টমেটোর দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, সেই টমোটো এখন ৮০ থেকে ৯০। খুচরা বাজারে এর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা। সাত দিনের ব্যবধানে এ সবজির দাম বেড়েছে দুই গুণের বেশি। একইভাবে ২০ টাকার করলা এখন পাইকারি ৪০ টাকা আর খুচরায় ৬০ টাকা। ২০ টাকার বরবটি পাইকারি ৩৫ টাকা আর খুচরায় ৫০ টাকা। ১০ টাকার কাঁকরোল এখন পাইকারি ২৫ টাকা আর খুচরায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। ২০ টাকার বেগুন পাইকারি ৪০ টাকা আর খুচরায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আট টাকার আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে।

বগুড়ার মহাস্থানহাটের পাইকারি টমেটো ব্যবসায়ী আলী আজগর জানান, কয়েক দিন আগেও তিনি ২৫ কেজি ওজনের এক ঝুড়ি টমেটো বিক্রি করেছিলেন ৮৭৫ টাকায়, যা গতকাল সোমবার দুই হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ঝুড়িপ্রতি দাম বেড়েছে এক হাজার ৩২৫ টাকা।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে টমেটোগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহ অনেক কমেছে। ফলে দাম বেড়েছে। গোল আলুর দাম ছিল প্রতি কেজি ১০ থেকে ১২ টাকা। চার দিনের ব্যবধানে গতকাল তা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

শিবগঞ্জের কুড়াহাট গ্রামের চাষি আইনুল হক বলেন, ‘আমার এক লাখ টাকার সবজিসহ ক্ষেত এখন পানির নিচে। কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’ একই উপজেলার বড় বেলঘড়িয়া গ্রামের আজিজার রহমান ও কাহালু উপজেলার বীরকেদার গ্রামের মজনু মিয়া বলেন, ১২ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি সবজি পানিতে ভেসে গেছে।

বগুড়া শহরের কাঁচাবাজারের এক ক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে টমেটো ও কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে পণ্যের দামে ব্যাপক তারতম্য দেখা যাচ্ছে।

খুচরা বাজারে আগে প্রতি কেজি লম্বা বেগুনের দাম ছিল ৩০ টাকা, যা গতকাল প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। খুচরা বাজারে প্রতিটি লাউয়ের দাম ছিল আকারভেদে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, যা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এ হিসাবে দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। 

বগুড়ার মহাস্থানগড়ের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আহম্মদ হোসেন জানান, বৃষ্টির কারণে হাটে সবজি আমদানি নেই বললেই চলে। আগে যেখানে এই হাট থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি সবজিবোঝাই ট্রাক রাজধানীতে পাঠানো হতো, এখন সেখানে এক-দুটি পাঠানোও মুশকিল হয়ে পড়েছে।

মহাস্থানহাটের আড়তদার এ টি এম ফারুক মিয়া বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ ভালোই ছিল। দামও নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে সবজির আমদানি নেই বললেই চলে। আগে ৪০০ থেকে ৫০০ ভ্যান বোঝাই সবজি আসত। এখন সেখানে ২০ থেকে ২৫ ভ্যান সবজি আসে। আবার যেসব সবজি আসে সেগুলো ঢাকার পাইকাররা কিনে নেন, যে কারণে স্থানীয় বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে।

এখন মৌসুম না হলেও বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ রয়েছে প্রচুর। তবে সবজি বাজারের সঙ্গে পেঁয়াজের দামও বাড়ানো হয়েছে। সাত দিন আগে বগুড়ার বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা। আজকের বাজারে তা বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। একইভাবে রসুন, আদার দাম হয়েছে দ্বিগুণ। সপ্তাহের শুরুতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে শসা বিক্রি হলেও এখন তার দাম ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে গাজর।

এ ব্যাপারে বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সম্প্রতি টানা বর্ষণে ক্ষেতে পানি জমে চাষিদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা