kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

কুলাউড়ায় দুই শিশু ধর্ষণের শিকার, সালিশে নিষ্পত্তির চেষ্টা

অবশেষে মামলা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০৪:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুলাউড়ায় দুই শিশু ধর্ষণের শিকার, সালিশে নিষ্পত্তির চেষ্টা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রথম শ্রেণি ও পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সালিশে বিষয়টি আপস নিষ্পত্তির চেষ্টাও করা হয়। সমাধান না হওয়ায় অবশেষে একটি মামলা রবিবার (১৪ জুলাই) রাতে ও অপর মামলা ১৫ জুলাই সোমবার রাতে থানায় দায়ের করা হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার পৃথিমপাশা ও সদর ইউনিয়নে ভিন্ন সময়ে ওই দুই শিশু শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দুটি ধর্ষণের ঘটনা আপোষ নিষ্পত্তির নামে ধামাচাপার জোর চেষ্টা চলে। বিষয়টি বিভিন্ন মহলে চাউর হলে কুলাউড়ায় মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

কুলাউড়া থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী গত ১৯ জুন বেলা ৩টার দিকে বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে তার পানির পিপাসা লাগলে গণকিয়া গ্রামের হারিছ আলীর বাড়ি যায় সে। এ সময় হারিছ আলীর ছেলের বউ সুলতানা বেগম পানি দিয়ে বাড়ির দক্ষিণ পাশে পুকুরে চলে যান। সেই সুযোগে হারিছ আলীর ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক আহাদ মিয়া (২৩) ওই স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয় দেখায়। ওই স্কুলছাত্রীর মা বিষয়টি জানতে পেরে আহাদ মিয়ার বাবা হারিছ আলীর কাছে বিচারপ্রার্থী হন। কিন্তু আহাদ মিয়ার বাবা এ বিষয়ে কোনো সমাধান না করায় রবিবার (১৪ জুলাই) রাতে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে আহাদ মিয়াকে আসামি করে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে উপজেলার কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের গাজীপুর চা বাগান এলাকায় প্রথম শ্রেণির ৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে গত শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে ধর্ষণ করেছে খোকন রাজভর (৩২) নামে এক যুবক। ওই স্কুলছাত্রীকে বাসায় একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সে। বিষয়টি জানাজানি হলে বাগানের কতিপয় ব্যক্তি আপস নিষ্পত্তির নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্লাহ ও এসআই সনক কান্তি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের স্থানীয় মেম্বার রামবিলাস দোসাদ নানকা জানান, তিনি রবিবার ধর্ষণের খবর জানতে পেরে অভিযুক্ত খোকন রাজভরসহ সকলকে বাসায় ডাকেন। তাদেরকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবার জন্য বলেন। এবং আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলেন।

পৃথক ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, পঞ্চম শ্রেণি ও প্রথম শ্রেণির শিশু ধর্ষণের ঘটনায়  মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা