kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে মতবিনিময়ে এমপি ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক

চকরিয়ায়কে বন্যামুক্ত করতে দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চকরিয়ায়কে বন্যামুক্ত করতে দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে

ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের চকরিয়াকে পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডব থেকে রক্ষা করার জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার পড়বে তার সবকিছুই করা হবে। এজন্য দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

এই প্রকল্প গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যদি কোনো প্রভাবশালী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তা কোন কাজে আসবে না। গত এক যুগ ধরে চকরিয়ায় প্রতিবছর চলে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতির ধারাবাহিকতা আর হতে দেওয়া হবে না। 

আজ সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চকরিয়ায় বন্যাকবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মোহনায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এই আশ্বাস দেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাজান আলী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মকছুদুল হক ছুট্টু ও জেসমিন হক জেসি, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত, সাংবাদিক তোয়ায়েল আহমদ, জাহেদ সরওয়ার সোহেল। 

এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বন্যার কারণ ও উত্তরণে কী করণীয় তা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এম আর মাহমুদ বলেন, ‘চকরিয়ার চিংড়িজোন তথা বিলুপ্ত সুন্দরবনের অন্তত ১০টি প্রবহমান খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে দুর্বৃত্তরা মৎস্য চাষ করছে। এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন উপকূলের ২৭টি স্লুইস গেট বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করছে।

এ কারণে উজান থেকে মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যেতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। এতে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়ে প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া মাতামুহুরী বিধৌত ইউনিয়নগুলোর যাতায়াতের মাধ্যম সড়কগুলোকে অবশ্যই আরসিসি দ্বারা তৈরি করতে হবে। যাতে বন্যায় কোনো ধরনের সড়কের ক্ষতি না হয়।

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর ইয়াংছা থেকে চকরিয়ার ২১ কিলোমিটার পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। আবার নদীর দুই তীর অরক্ষিত থাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি ভাটির দিকে যাওয়ার আগেই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া মানিকপুর বনবিটের সামাজিক বনায়ন উজাড় এবং পাহাড় নিধন করে সেখানে অবৈধভাবে রাতারাতি বসতি স্থাপন করা হচ্ছে বলে সভায় অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান আজিম।’

এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, বরইতলীর সোনাইছড়ি ও হারবাং ছড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পানি চলাচলের একমাত্র ছড়াখালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় দ্রুত ভাটির দিকে নামতে না পারার কথাও তুলে ধরেন বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি।

এসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আফসার বলেন, ‘চকরিয়ায় কেন বন্যা হয় তা স্বচক্ষে দেখে পরবর্তী করণীয় কী হতে তার বিস্তারিত জানার জন্যই আমি সরজমিন এখানে এসেছি। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, যেসব প্রবহমান খালে বাঁধ দিয়ে মৎস্যচাষ করা হচ্ছে তা অবশ্যই অপসারণ করা হবে। যখনই খোলা থাকার কথা তখনই খোলা থাকবে উপকূলের স্লুইস গেটগুলো। এতে যদি কোনো প্রভাবশালী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তাহলে কোনো কাজ হবে না।’

তিনি বলেন, মাতামুহুরী নদী কেন্দ্রীক ইউনিয়নগুলোর সড়কগুলো যাতে আরসিসিতে করা হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং নির্দেশ দেওয়া হবে। এছাড়া মাতামুহুরী নদীকে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘আমরা চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ চাই না। তবে ত্রাণ হিসেবে সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া চাল ও গমের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ বসবাস উপযোগী করার ওপর জোর দিতে হবে।

এ জন্য চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ একমত। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আপনাদের এ নিয়ে কোনো টেনশন করতে হবে না। আমিই সব কিছুর দায়ভার নেব এবং প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়ে আমিই মুভ করব। এরপরও আমি চাই আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ নিরাপদে থাকুক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা