kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সামনে আনা হলো রিফাতের বাবা দুলাল শরীফকে

এমপি শম্ভুর ছেলে প্রেস ক্লাবের ভেতরে-বাইরে আসা-যাওয়া করছিলেন!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল ও বরগুনা প্রতিনিধি    

১৪ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপি শম্ভুর ছেলে প্রেস ক্লাবের ভেতরে-বাইরে আসা-যাওয়া করছিলেন!

রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মিন্নিকে দায়ী করতে এবার সামনে আনা হলো রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফকে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে তাঁকে দিয়ে বরগুনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করানো হয়েছে। এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি মিন্নির গ্রেপ্তার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলন চলাকালে সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে সুনাম দেবনাথ আগাগোড়া বরগুনা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তিনি বারবার প্রেস ক্লাবের ভেতরে-বাইরে আসা-যাওয়া করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দুলাল শরীফ বলেন, রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের সময় নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের ঘটনা মিন্নি ও তার পরিবার গোপন রাখে। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও মিন্নি নয়নের বাসায় যাওয়া-আসা করত। রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার আগের দিন সকাল ৯টায় এবং সন্ধ্যায়ও মিন্নি নয়নের বাসায় যায়। মিন্নি অন্যদিন রিফাতকে ছাড়া কলেজে গেলেও ঘটনার দিন রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে যায়। ঘটনার দিন রিফাত কলেজ থেকে মিন্নিকে নিয়ে চলে আসতে চাইলে মিন্নি কালক্ষেপণ করতে থাকে। পরে হত্যাকারীদের উপস্থিতি দেখে মিন্নি কলেজ থেকে বের হয়। ওই সময় মিন্নিকে নিয়ে আসতে গেলে আমার ছেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাকারীরা।’

দুলাল শরীফ প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, মিন্নিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।

ওই সময় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হয়, মামলার বেশ কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের প্রেপ্তার করার দাবি না জানিয়ে মিন্নিকে গ্রেপ্তার করার দাবি কেন? এর জবাবে দুলাল শরীফ বলেন, ‘সবাইকেই আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

এ অভিযোগ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠ’র বরিশাল প্রতিবেদক গত রাতে মিন্নির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরপর আমার শ্বশুর মামলা করলেন।

সেই মামলায় আমাকে এক নম্বর সাক্ষী করেছেন। এত দিন পর কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ? মামলায় প্রথমেই কেন আমাকে আসামি করেননি? আমার ধারণা, উনি কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বা কাউকে বাঁচানোর জন্য এসব কথা বলছেন।’ মিন্নি দাবি করেন, তিনি নয়ন বন্ডের বাসায় কখনো যাননি।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বেয়াই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি একেক সময় একেক কথা বলছেন। আজ যেটা বলছেন, কালই হয়তো সেটা থেকে ফিরে আসবেন।’

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নানা রকম অপতৎপরতা চালাচ্ছে কিছু প্রভাবশালী মহল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত চালানো হচ্ছে অপপ্রচার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা