kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

সোনারগাঁ পৌরসভা

রাস্তা না বানিয়েই বিল উত্তোলন!

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি    

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৮:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাস্তা না বানিয়েই বিল উত্তোলন!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভায় গুরুত্বপূর্ণ শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারটি গুচ্ছের আংশিক কাজ করে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। জনগুরুত্বপূর্ণ এসব রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের ওই কাজগুলোয় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, বিভিন্ন সড়কে সুরক্ষা দেয়াল ও মাটি ভরাট না করার অভিযোগ করেছে তারা।

পৌরসভা সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চারটি গুচ্ছের কাজ পায় সোনারগাঁ এন্টারপ্রাইজ ও রিপা কনস্ট্রাকশন। কার্যাদেশের এগারো মাস অতিবাহিত হলেও গোয়ালদী জিটকাতলার একটি রাস্তা এখনো কার্পেটিং করা হয়নি। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। এ ছাড়া রাস্তার কিছু অংশে আরসিসি ঢালাইয়ের আট মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কের দুই পাশে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট না করায় যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এতে ওই সড়কগুলো নিয়ে এলাকাবাসীর চলমান ভোগান্তি আরো বেড়ে যাবে।

গত রবিবার পৌরসভার গোয়ালদী জিটকাতলায় গিয়ে দেখা যায়, আমজাদ মিয়ার বাড়ি থেকে বাগনাজিরপুর রিপন কাউন্সিলরের বাড়ির শেষ সীমানা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তায় এখনো ইটের কার্পেটিং হয়নি। দুই পাশে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট না করায়  রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইটের রেজিন বসিয়ে ৮০ শতাংশ বিল উত্তোলন করে সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে রাস্তা তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া সড়কের নির্মাণকাজে যে ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, তা খুবই নিম্নমানের। প্রায় ১০ মাস আগে রেজিন বসালেও আজ পর্যন্ত কার্পেটিংই হয়নি। ঠিকাদার এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং পর্দার আড়ালে কাউন্সিলর রিপন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাঈম আহমেদ রিপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমজাদ মিয়ার বাড়ি থেকে আমার বাড়ি পর্যন্ত কার্পেটিং ও আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ শেষ। এখন শুধু গাইডওয়ালের কাজ বাকি।’ পরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় কার্পেটিং, ঢালাই কিছুই হয়নি। কশিনার ভুল তথ্য দিয়েছেন। নিজের এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এটা না জানিয়ে ঠিকাদারের পক্ষে ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে ফের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি, কয়েক দিনের মধ্যেই রাস্তার কার্পেটিংসহ সুরক্ষা দেয়ালের কাজ করবেন বলে বলেছেন তিনি।’

সোনারগাঁ এন্টারপ্রাইজের মালিন শাহীন মিয়া বলেন, ‘পৌরসভার বাজেট নেই, বাজেট এলেই আমি কাজ ধরব।’ ৮০ শতাংশ বিল উত্তোলনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে জানান, মোট কাজ ৪০ লাখ টাকার। তার অর্ধেক ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী তানভীর আহাম্মেদ কালের কণ্ঠকে জানান, কার্যাদেশের প্রায় এগারো মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদারি দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করছে না। এতে পৌরসভার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিল উত্তোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারকে বলেছি, রাস্তা বুঝিয়ে দিয়ে বিল নিয়ে যাবেন। কিন্তু ঠিকাদারের ইচ্ছা— একটু কাজ করে বিল তুলে বাকি কাজ করবে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।’

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও সচিব সামসুল আলম জানান, এ রাস্তার ব্যাপারে ঠিকাদারকে বারবার নোটিশ করার পরও সে কাজ সম্পূর্ণ করছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা