kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

ধুনটে থানায় এনে নারীকে পেটালেন পুলিশ কর্মকর্তা!

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি    

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৮:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধুনটে থানায় এনে নারীকে পেটালেন পুলিশ কর্মকর্তা!

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় থানায় ডেকে এনে এক নারীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এএসআই শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে। শুধু থানায়ই নয়, আহত ওই নারী ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে গিয়েও তাঁকে মারধর করেন এএসআই। গতকাল শুক্রবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

আহত কহিনুর খাতুন (৪২) বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌবাজার এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী। জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কহিনুর তাঁর বাবা একই এলাকার জাবেদ আলীর বাড়িতে থাকেন। বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের একটি দোকান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চানান কহিনুর।

স্থানীয় সূত্র ও আহত কহিনুর জানান, ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চাকরি করতেন এএসআই শাহানুর রহমান। তিনি ওই সময় কহিনুরের দোকানে প্রতিদিন খাবার খেতেন। সেই সুবাদে দুজনের মধ্যে গভীর সখ্য গড়ে ওঠে। কহিনুরের বাসায়ও অবাধ যাতায়াত ছিল শাহানুরের। একপর্যায়ে কৌশলে কহিনুরের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ধার নেন শাহানুর। তিনি ২০১৬ সালের নভেম্বরে বগুড়া সদর থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। কহিনুর পাওনা টাকা চাইলে টালবাহানা করেন শাহানুর। এতে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

এ অবস্থায় দুই মাস আগে পাওনা টাকা চেয়ে শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেন কহিনুর। কিন্তু এতে সাড়া দেননি শাহানুর। ফলে বগুড়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেন কহিনুর। খবর পেয়ে শাহানুুর এক সপ্তাহ আগে কহিনুরকে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। সেই টাকা দেওয়ার কথা বলে গতকাল সকালে কহিনুরকে ধুনট থানায় ডেকে আনেন শাহানুর। তিনি এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কহিনুরকে পিটিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। আহত কহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে সেখানেও তাঁকে পেটাতে থাকেন শাহানুর। পরে স্থানীয়রা কহিনুরকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এএসআই শাহানুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে।

এ বিষয়ে কহিনুর খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শাহানুর কৌশলে আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। সেই টাকা চাইলে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি। ফলে সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সে আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিই। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেওয়ার কথা বলে কৌশলে থানায় ডেকে এনে আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত এএসআই শাহানুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কহিনুর আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষে ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপসনামায় স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তার পরও আজ (গতকাল) সকালে থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়থাপ্পর মেরেছি।’

খবর পেয়ে গতকাল দুপুরের দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও গাজীউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। গাজীউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযোগ ওঠায় শাহানুর রহমানকে প্রথমে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হবে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধুনট থানার ওসি ইসমাইল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুইজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা