kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ভারতীয় জেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৩:৪৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ভারতীয় জেলের

পাঁচ দিন বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকার পর উদ্ধার হওয়া ভারতীয় জেলে রবীন্দ্রনাথ দাস (কানু দাস) তাঁর জীবন রক্ষার জন্য এমভি জাওয়াদ, কেএসআরএম গ্রুপ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করার আগে রবীন্দ্রনাথ দাস সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা কেদুয়া থেকে ট্রলার নিয়ে রবীন্দ্রনাথসহ আরো ১৫ জন মাছ শিকারে বের হয়। পরদিন তাদের মাছ ধরার ট্রলারটি উল্টে গেলে রবীন্দ্রনাথ ও অন্যরা সাগরে ভাসতে থাকে। এরপর গত ১০ জুলাই দুপুরে কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের এমভি জাওয়াদ নামের একটি মাছ ধরার জাহাজের নাবিকরা রবীন্দ্রনাথকে কুতুবদিয়া থেকে উদ্ধার করে। 

কান্নায় ভেঙে পড়া রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘ট্রলার ডুবে যাওয়ার পর থেকে আমরা ১৫ জন একটা বাঁশকে ধরে সাগরে ভাসতে থাকি। সাগর উত্তাল থাকায় একে একে সবাই পরে তলিয়ে যেতে শুরু করে। সব শেষ বেঁচে ছিলাম আমি আর আমার ভাইপো। কিন্তু উদ্ধারের মাত্র তিন ঘণ্টা আগে আমার ভাইপো সাগরে ডুবে গেল। বাকি রইলাম আমি। এমন সময় বাংলাদেশি জাহাজ এমভি জাওয়াদ ত্রাণকর্তা হিসেবে হাজির হয়ে আমাকে উদ্ধার করে। 

মরতে মরতে আমি বেঁচে গেলাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে উত্তাল ঢেউ আর নোনা পানির সঙ্গে লড়াইয়ের সময় যখন বৃষ্টি হতো তখন আকাশের পানি পান করতাম। সাগরের মাছ আমার হাতে ও ঘাড়ে কামড়াতো। প্রাণে বাঁচার ছিল কী আকুতি। মনে পড়ত বাবা, মা, ছেলে আর মেয়ের প্রিয় মুখগুলো।’ এ সময় রবীন্দ্রনাথ জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য বারবার এমভি জাওয়াদ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ড. সাজিদ হোসেন, কেএসআরএমের সিইও প্রকৌশলী মেহেরুল করিম, এমভি জাওয়াদের ক্যাপ্টেন এস এম নাসির উদ্দিন, মাস্টার পুলক কুমার ভাস্কর, মেরিন সুপার ওসমান গনি, ডিপিএ-সিএসএ ফয়েজ আহমদ জ্যাকব, ডাক্তার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্র্যান্ড ম্যানেজার মনিরুজ্জামান রিয়াদ প্রমুখ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা