kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

তিন কারণে বিমানবন্দর সড়কে ভয়াবহ যানজট

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৩ জুলাই, ২০১৯ ০৩:০৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিন কারণে বিমানবন্দর সড়কে ভয়াবহ যানজট

চট্টগ্রামের মূল শহর থেকে বিমানবন্দরমুখী সড়কে তিন দিন ধরে ভয়াবহ যানজট চলছে; যা আগে কখনো দেখা যায়নি। এর কবলে পড়ে বিমানযাত্রী, বিশেষ করে হজযাত্রীরা নিয়মিত ফ্লাইট ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম ইপিজেড, চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমে কর্মরতরা মূল শহরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। 

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানত তিনটি কারণে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরমুখী সড়কে ভয়াবহ যানজট চলছে। কারণগুলো হলো—চলাচলের একমাত্র সড়কটির বড় অংশ দখল করে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণকাজ, বন্দরের গাড়িগুলোর ইচ্ছেমতো প্রধান সড়ক দখল করে রাখা এবং সিমেন্ট ক্রসিং এলাকার জলাবদ্ধতা।

স্থানীয়রা বলছে, অতি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়কে চট্টগ্রাম ওয়াসার রাস্তা কেটে ফেলে রাখা; নিমতলা থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত সড়কটি চালু না হওয়াও যানজটের অন্যতম কারণ।

তিন দিন ধরে এই সড়কে যানজট নিরসনে চেষ্টা করছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) তারেক আহমেদ। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে যাওয়ার মূল সড়ক সিমেন্ট ক্রসিং মোড়ে তিন দিন ধরেই কোমরসমান পানির কারণে যান চলাচল প্রায় অচল। এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কারণে কাঠগড় হয়ে বিমানবন্দর যাওয়ার প্রধান সড়কটিতে ছোট-বড় অনেক গর্ত রয়েছে। তার ওপর নারকেলবাড়ী এলাকায় এমন বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে যাতে পড়ে গাড়ি বিকল হচ্ছে। আর বিকল গাড়ির কারণেই যানজট প্রকট আকার ধারণ করছে।’

তাঁর মতে সমস্যার আরেকটি কারণ হচ্ছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সব গেটে গাড়ি প্রবেশের সময় চালকদের নতুন কার্ড প্রদান কার্যক্রম। চালকদের তাত্ক্ষণিক কার্ড দিতে গিয়ে প্রচুর সময় লাগছে। ওদিকে প্রধান সড়কে পণ্যবাহী ও খালি গাড়ির দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলছেন, সহকর্মীরা যানজট নিরসনে কাজ করছে কিন্তু সুফল মিলছে না।
তবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন মনে করেন, যানজটের মূল কারণ সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা ও তার বাস্তবায়নের অভাব। 

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এতে অনেকগুলো ইউটার্ন দেওয়া আছে, বন্দর থেকে গাড়ি বের হওয়ার বিশেষায়িত টোল রোড ব্যবহার করা হয় না; বন্দরের জেটির ভেতর নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সড়ক নেই। অফিস সময় যখন প্রচণ্ড গাড়ির চাপ থাকে তখন বন্দরের গাড়িগুলো একই সময়ে ঢোকে ও বের হয়; সিনক্রোনাইজেশন নেই।’

তিনি আরো বললেন, ‘দেখুন আমরা নিমতলা থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত সড়কটি ছয় লেন করছি। যে অংশটুকু কার্পেটিং হয়েছে সেটিও দখল করে রেখেছে পণ্যবাহী গাড়ি।’ তাঁর মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় না থাকলে এই যানজটের স্থায়ী সমাধান মিলবে না।

এদিকে, ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়ে তিন দিন ধরে নিয়মিত বিমানযাত্রী বিশেষ করে হজযাত্রীরা ফ্লাইট মিস করছেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশ বিমানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিমান প্রস্তুত থাকলেও শহর থেকে হজযাত্রীরা নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারায় ফ্লাইট দুই ঘণ্টা দেরিতে ছেড়েছে। এর পরও অনেক যাত্রী নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে পারেননি।’

অসহনীয় যানজট প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের উপসচিব মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন, ‘চার দিন ধরে পতেঙ্গায় ২০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে চার ঘণ্টা। পরে বাধ্য হয়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছি; কিন্তু সেই ফুটপাতও চলাচলের উপযোগী নেই।’

স্থানীয়দের মতে, যানজটের প্রধান তিনটি কারণের মধ্যে একটির জন্য দায়ী চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দরমুখী যাতায়াতের প্রধান সড়কটির মাঝখানে দুই-তৃতীয়াংশ দখল করে নির্মিত হচ্ছে বিমানবন্দরে চলাচলের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। বাকি সরু অংশটুকু ভাঙাচোরা ও বড় গর্তে ভর্তি।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান মনে করেন বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ায় এই দুরবস্থা। তিনি বলেন, ‘তবে বৃষ্টি কমলেই আমরা ইট দিয়ে যান চলাচলের উপযোগী করব সড়কটি। ইতিমধ্যে ইট দিয়ে গর্ত ভরাট করছি। শুষ্ক অবস্থা পেলে কার্পেটিং করে দেব। কারণ, দুই পাশে দুই লেন সচল রাখা আমাদের কাজের অংশ।’

যানজটের অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে ইপিজেড পর্যন্ত প্রধান সড়ক দখল করে গাড়ি পার্কিং করে রাখা। বন্দরে ঢোকার পাস পাওয়া গাড়ি ছাড়াও অন্যান্য ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-লরিগুলোও দিন-রাত প্রধান সড়ককে পার্কিং বানিয়ে রেখেছে।

জানতে চাইলে বন্দরের এক কর্মকর্তা বললেন, ‘আমাদের নিজস্ব কোনো পার্কিং নেই যে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে এই কাজ করা যাবে। সুতরাং সড়ক ছাড়া তো উপায় নেই।’ 

এদিকে, সিমেন্ট ক্রসিং এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় রুবি সিমেন্টের অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে গতকাল কিছুটা সুফল মিলেছে। কিন্তু সেখানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বড় নালা নির্মাণকাজ করছে অনেক দিন ধরে। সেই নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ না করলে আবারও জলাবদ্ধতার মুখে পড়ে অচল হবে বিমানবন্দর সড়ক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা