kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ছেলে ধরা গুজব ছড়ানোয় চাঁদপুরে আটক ৮

গণপিটুনির শিকার ১ বৃদ্ধা

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ২২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেলে ধরা গুজব ছড়ানোয় চাঁদপুরে আটক ৮

ছবি: কালের কণ্ঠ

পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবের ডালপালা চাঁদপুরেও বিস্তার করেছে। এই নিয়ে গুজব ছড়ানো এবং গণপিটুনি দেবার ঘটনায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এদের মধ্যে ৫ জনকে জেলার ফরিদগঞ্জ, অন্য তিনজনকে সদর উপজেলা থেকে আটক করে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ফরিদগঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে মাহমুদা বেগম (৬০) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা গণপিটুনির শিকার হন। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের নারকেলতলা গ্রামের নোয়া বাড়ির সামনে বৃদ্ধাকে দেখে বাড়ির লোকজনের ডাকচিৎকার শুরু করেন। 

এ সময় আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। একপর্যায়ে বৃদ্ধাকে কয়েকজন মিলে গণপিটুনি দেয়। এমন সংবাদ পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গনি বাবুল পাটওয়ারীসহ গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেন।

ঘটনাটি ফেসবুকের ছড়িয়ে পড়ে। পরে এই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- সুমন (২৮), জলিল (৫০), ইউছুফ (৩০), ইব্রাহীম (২৮) ও জসিম (২০)। বৃদ্ধাকে গণপিটুনির ঘটনায় ওই রাতেই ফরিদগঞ্জ থানায় তার ছেলে মাহফুজ উল্যাহ বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার আটককৃতদের চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, ঘটনার শিকার বৃদ্ধা জুলেখা বেগম চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম সকদি গ্রামের বিল্লাল মুন্সীর স্ত্রী তিনি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। গণপিটুনির ঘটনায় ৫ জনকে আটক করা হলেও অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

চাঁদপুরে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজবে আটকদের মধ্যে তিনজনকে আজ সকালে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।  জানালেন, সদর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন।

আটকৃতরা হচ্ছে- সাজ্জাদ গাজী (২২), সায়েম ভুঁইয়া (২৫) এবং আবু খালেদ রতন (২০)।

এই নিয়ে কথা বলেন, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী। তিনি বলেন, মিথ্যা এমন গুজব যারাই ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, ছেলে ধরা গুজবে কেউ কান দেবেন না। ইতিমধ্যে এমন রটনাকারীদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইবার পেট্রোলিং শুরু করা হয়েছে।

ফলে যে কেউ সামাজিক মাধ্যমে এই ধরনের গুজব ছড়ালে খুব সহজেই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। তাছাড়া যেকোনো পরিস্থিতিতে মানুষজন যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, তার জন্যও সতর্ক করে দিয়েছেন জেলার শীর্ষ এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা