kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপরে

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপরে

নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ৭টায় পানি বেড়ে ৪২ সেন্টিমিটার উপরে ওঠে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হয়।

নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেস্টিত প্রায় ১৫ টি চরাঞ্চল গ্রামের প্রায় ১০ সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
 
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র মতে, তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাতে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপরে ওঠে। শুক্রবার পানি কিছুটা কমলেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিপৎসীমার উপরে থাকে। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় আরো পানি বেড়ে ৪২ সেন্টিমিটার উপরে ওঠে। সকাল ৬টায় ২৪, সকাল ৯টায় ২২ এবং বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২০ ও সন্ধ্যা ৭টায় ৪২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। সেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার।
 
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। শুক্রবার সামান্য কমলেও ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের প্রায় নয়শ পরিবারের ঘরবাড়ি হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে আছে। পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে রয়েছে।

একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি মৌজা প্লাবিত হয়ে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। পানির তেড়ে চরখড়িবাড়ি গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত দুই কিলোমিটারের বালুর বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত বুড়ি তিস্তা, দেওনাই, চাড়ালকাটা, ধাইজান, খড়খড়িয়া যমুনেস্বরীসহ সকল নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে বলে জানান নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
  
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ৯টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার উপরে ওঠে। শুক্রবার বেলা ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দুর্বল স্থানগুলো শক্তিশালী করণে জরুরী রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। 

এদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এসএ হায়াৎ বলেন, তিস্তার পানিবৃদ্ধির ফলে ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই এবং টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ওই উপজেলায় ৫০ মেট্রিকটন চাল, ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। ওই বরাদ্দ থেকে প্রয়োজন মাফিক উপজেলা পরিষদ ব্যবহার করতে পারবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা