kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

জেলা-উপজেলার নেতাদের নিয়ে জাসদের প্রতিনিধি সভা শুরু

সুশাসনের দেশ গড়তে নতুন রাজনৈতিক চুক্তি চাই : ইনু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুলাই, ২০১৯ ২০:০৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুশাসনের দেশ গড়তে নতুন রাজনৈতিক চুক্তি চাই : ইনু

ফাইল ছবি।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই এবং রাজনীতি-রাষ্ট্র-সংবিধান থেকে সামরিক শাসকদের চাপিয়ে দেয়া জঞ্জাল পরিষ্কার করে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের পথে ফেরত আনা, জঙ্গিবাদ দমন করে রাজনৈতিক শান্তি ফিরিয়ে আনা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মহাসোপান তৈরির পর্ব। 

তিনি আরো বলেন, ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ফলেই ২০১৯ সালে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন পর্বে উপনীত হয়েছে। রাজনীতির নতুন পর্বে জঙ্গিবাদের ধ্বংসস্তুপের ওপর দলবাজি-গুণ্ডামি-দুর্নীতি-লুটপাট-বৈষম্যমুক্ত সুশাসনের দেশ গড়ার জন্য নতুন রাজনৈতিক চুক্তি দরকার। নতুন পর্বের নতুন রাজনৈতিক চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল-অসাম্প্রদায়িক শক্তির কার্যকর ঐক্য প্রয়োজন। 

তিনি আরো বলেন, সকল ক্ষেত্রে, সকল পর্যায়ে দল না দেখে, মুখ না দেখে আইনের কঠোর প্রয়োগ; সকল পর্যায়ে জনপ্রশাসন, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতার মধ্য দিয়েই আইনের শাসন ও সুশাসনের পথ তৈরি হবে। আইনের শাসন-সুশাসনের পথ তৈরি করতে পারলেই দলবাজি-গুণ্ডামি-দুর্নীতি-লুটপাট-খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল-ধর্ষণ-নির্যাতন বন্ধ হবে।

ইনু বলেন, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা-ধর্মান্ধতা-কুসংস্কার শিকড়সহ উপড়ে ফেলেই অর্জিত রাজনৈতিক শান্তি টেকসই করতে হবে। ইনু বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক উক্তি ‘সোনার বাংলা শ্মশান কেন?’ উদ্ধৃত করে বলেন, স্বাধীন দেশে গরিব কেন? দেশে ও সমাজে এতো বৈষম্য কেন? বৈষম্যের অবসানে সংবিধানের পাতায় লেখা অন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক নীতি ও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে।

জনগণের পাশে দাঁড়ানোর এবং জাসদকে জনগণের কণ্ঠস্বরে পরিণত এবং সুশাসনের জন্য লড়াই করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
 
শুক্রবার সকালে নগরীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাসদের জেলা-উপজেলা কমিটির নেতাদের অংশগ্রহণে প্রতিনিধি সভার উদ্বোধনী অধিবেশনের ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে সকাল ১০ টায় মহানগর নাট্যমঞ্চের উন্মুক্ত প্রাঙ্গনে জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে দলীয় সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি জাতীয় পতাকা ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি দলীয় পতাকা উত্তোলন করে প্রতিনিধি সভার উদ্বোধন করেন। জাসদের এ প্রতিনিধি সভায় প্রতিনিধি হিসেবে দলের জেলা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ অংশগ্রহণ করেন। সহস্রাধিক প্রতিনিধি সভায় যোগদান করেছেন।
 
শিরীন আখতার দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ও সংগঠিত হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনতার কাছে যেতে হবে-জনতার সমর্থন আদায় করতে হবে; জনতার সাথে একতাবদ্ধ হতে হবে। 

দলবাজ-ক্ষমতাবাজ-দুর্নীতিবাজদের প্রতিরোধ কর, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত কর, চিহ্নিত লুটেরা-ঋণখেলাপী-কালো টাকার মালিকদের কবল থেকে দেশ-অর্থনীতি-ব্যাংক-শেয়ার বাজার বাঁচাও, অর্থনীতি ও সমাজে বৈষম্যের অবসান কর, সমাজতন্ত্রের পথ ধর, কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির অনিশ্চয়তা ও সংকটের স্থায়ী সমাধান কর, কৃষি বাঁচাও-কৃষক বাঁচাও, সকল ক্ষেত্রে নারীর সমাধিকার নিশ্চিত কর, শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম জাতীয় মজুরী চালু কর, গ্রাম-শহরের গরীব মানুষের জন্য রেশনিং ও ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু কর, বেকার যুবকদের কাজ দাও, নইলে বেকার ভাতা দাও; বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ গণপরিবহণে বিশৃংখলা দূর কর, যাত্রী হয়রানি বন্ধ কর, ভাড়া কমাও, সড়ক-মহাসড়ক-নৌ পথ-রেল পথে দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ কর; শিক্ষার গুণগত মানের অবনতি ঠেকাও, শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃংখলা, বৈষম্য, দুর্নীতি, নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস, হেফাজতিকরণ বন্ধ কর; চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশৃংখলা-দূর্নীতি-অনিয়ম দূর কর, শহর ও গ্রামের সকল নাগরিকের মানসম্মত চিকিৎসা সুযোগ নিশ্চিত কর, চিকিৎসা ব্যয় কমাও, আইন সংস্কার ও বিচার ব্যবস্থা সম্প্রসারণ কর, বিচার প্রার্থীর স্বল্প সময়ে ন্যায় বিচার ও প্রতিকার পাওয়া নিশ্চিত কর, শিল্প-কৃষি-সেবা খাতে প্রকৃত উদ্যোক্তা ও উৎপাদকদের রাষ্ট্রীয় সমর্থন দাও, খাদ্য ও ওষুধে ভেজালকারীদের কঠোরভাবে দমন কর, মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখো; ধর্ষক, নির্যাতক, সন্ত্রাসী, খুনিদের গ্রপি্তার কর-দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও, ধপ্ণি রোধে নতুন আইন প্রণয়ন কর, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা-ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে অভিযান এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখো' এসব দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

হাসানুল হক ইনুর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া উদ্বোধনী অধিবেশনে মধ্যাহ্ন বিরতির পূর্ব পর্যন্ত দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোশাররফ হোসেন, মীর হোসাইন আখতার, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ, রেজাউল করিম তানসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান শওকত, নুরুল আখতার, নাদের চৌধুরী, সহ-সভাপতি আবদুল হাই তালুকদার, ফজলুর রহমান বাবুল, আফরোজা হক রীনা, সফি উদ্দিন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, মোহর আলী চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, লোকমান আহমেদ, সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, রোকনুজ্জামান রোকন, অ্যাডভোকেট সাদিক হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
 
মধ্যাহ্ন বিরতির পর জেলা ও উপজেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ বক্তব্য রাখেন। সভা রাত পর্যন্ত চলবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা