kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা, বিপৎসীমার উপরে কুশিয়ারার পানি

হবিগঞ্জে প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৯:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টানা বৃষ্টিতে হবিগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা, বিপৎসীমার উপরে কুশিয়ারার পানি

টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জের নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি বৃদ্ধি এবং বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এম এল সৈকত জানান, অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জের সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর শেরপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নদীর পানি বিপৎসীমার তিন সেন্টিমিটার উপরে ছিল। তবে হবিগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খোয়াই নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে নেমে আছে। জেলার সুতাং, সোনাই ও করাঙ্গী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে পাহাড়ি ঢল এবং অভ্যন্তরীণ বৃষ্টির জন্য। কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। তবে খোয়াই এর পানি বৃদ্ধির তেমন সম্ভাবনা নেই।
 
তিনি আরো জানান, যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে এবং ভারত থেকে বেশী পরিমাণ পানি আসে, তাহলে নদ-নদীগুলোর অবস্থা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। এতে করে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত হবিগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে করে হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্ন রোডে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সমানের সড়ক, শায়েস্তানগর হকার্স মার্কেট, শায়েস্তাগঞ্জ আবাসিক এলাকা, শ্যামলী এলাকা, গরুর বাজার, ঘাটিয়া এলাকাসহ শহরজুড়ে বাসগুলোতে হাটু পানি জমেছে। 

এতে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়াসহ দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এই দুর্ভোগের কারণ হিসেবে পুরাতন খোয়াই নদীসহ বিভিন্ন ডোবা এবং নালা দখল ও অপরিকল্পিত জলাবদ্ধতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

শুক্রবার বিকেলে এই জলাবদ্ধতার সাময়িক সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মুরাদ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান মিজান শহরের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। হবিগঞ্জ শহরের মাহমুদাবাদ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর শেখ উম্মেদ আলী শামীমসহ স্থানীয় লোকজন ড্রেন পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন।
 
হবিগঞ্জ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর হবিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপারের সভাপতি তোফাজ্জল সোহেল বলেন, যত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হোক না কেন পুরাতন খোয়াই নদী উদ্ধারের বিকল্প নেই। বৃষ্টিপাত আসলে প্রাথমিকভাবে এই নদীতেই পানি জমবে। এতে করে শহরে জলাবদ্ধতা দূর হবে।

টানা বৃষ্টিপাতে হবিগঞ্জ শহর ছাড়াও চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে গৃহবন্দি হয়েছেন শত শত মানুষ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা