kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

ফসল বাঁচাতে নির্মাণাধীন ব্রিজের ডাইভার্সন বাঁধ কেটে দিল ক্ষুব্ধ কৃষকরা

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৯:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফসল বাঁচাতে নির্মাণাধীন ব্রিজের ডাইভার্সন বাঁধ কেটে দিল ক্ষুব্ধ কৃষকরা

গলাচিপার হরিদেপুর-শাখারিয়া রোডে আদম ব্রিজ এলাকায় খোলা খালে বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হচ্ছে কৃষকের। এলাকার পাঁচ শতাধিক কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে নির্মাণাধীন ব্রিজের ডাইভার্সন বাঁধ কেটে দিলেও আবার বাঁধ দিয়ে দেয় ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। 

ফলে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে রয়েছে গলাচিপার গোলখালীর সুহরী ও ছোটগাবুয়ার তিন হাজার কৃষকের জমি। এসব গ্রামের ফসলি জমি, পানের বরজ পানিতে তলিয়ে রয়েছে। 

এদিকে নির্মাণাধীন ব্রিজ এলাকার বাঁধ কেটে দেয়ার খবর পেয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. রফিকুল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আখতার মোর্শেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সাথে কৃষকদের ক্ষেতের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গলাচিপার নির্মাণাধীন আদম ব্রিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্সের সাইট ম্যানেজার গোলাম মাওলা মিটু বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার কৃষকরা দলবদ্ধভাবে এসে হঠাৎ করেই বাঁধ কেটে দেয়। পরে আমরা আবার বাঁধ দিয়ে ব্রিজের কাজ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, তিন মাস আগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও পুরনো ব্রিজ ভাঙতে সময় লেগেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন ডাইভার্সন বাঁধ খুলে দেয়া যাবে।

গোলখালী ইউনিয়নের সুহরী গ্রামের পান চাষি নাসির উদ্দিন জানান, তার নিজের তিন একর কৃষি জমি রয়েছে। পানের বরজও আছে। ধান চাষের জন্য বিআর-১১, ২২ ধানের বীজ তিনবার বপণ করেছেন। কিন্তু পানিতে তলিয়ে থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। অপর দিকে পানের বরজ তলিয়ে থাকায় গত কয়েকদিন ধরে পাম্প মেশিন দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাও আর সম্ভব হয়নি। এখন সব বরজ পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তার প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হবে বলে জানিয়েছেন। 

একই ইউনিয়নের ছোটগাবুয়ার কৃষক আশ্রাফুজ্জামন লিটন জানান, সাত একর জমিতে ধান চাষ করেন। দুই বার বীজ বপন করেও জলাবদ্ধতার কারণে তা নষ্ট হয়ে যায়। বীজ বপনের মৌসুম শুরু হলেও বীজ বপন করতে পারেননি। এর প্রভাব ধান চাষে ব্যাপকভাবে পড়বে বলে তিনি মনে করেন। 

পান চাষি নিতাই সাধু, অবিরাম সাধু ও মন্টু বিশ্বাস ওই গ্রামের বড় পান চাষি। তারা জানান, সড়ক বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে আদম ব্রিজ এলাকার খোলা খালে ডাইভার্সন বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করায় প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় ধান ও পানের ক্ষতি হবে বেশি। 

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ মো. সামস মোকাদ্দের বলেন, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা একটু হবেই। এখন ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শেষ করতে এখনো এক মাসের মতো সময় লাগবে। কাজ শেষ করে ডাইভার্সন বাঁধ খুলে দেয়া হবে। আর উন্নয়নের স্বার্থে একটু কষ্ট তো করতেই হবে।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গলাচিপার গোলখালী ইউনিয়নের হরিদেবপুর-শাখারিয়া রোডের নির্মাণাধীন আদম ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করেছি। সুহরী ও ছোটগাবুয়া এলাকার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা বাঁধ কেটে দিয়েছিল। আমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস দিয়েছেন।

মন্তব্য