kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ধুনটে নারীকে পেটাল পুলিশ কর্মকর্তা

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৯:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ধুনটে নারীকে পেটাল পুলিশ কর্মকর্তা

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় কৌশলে থানায় ডেকে এনে কহিনুর খাতুন (৪২) নামে এক নারীকে পিটিয়ে আহত করেছেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহানুর রহমান। আহত কহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনা ঘটে। 

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া বৌ-বাজার এলাকার জাকির হোসেনের স্ত্রী কহিনুর খাতুন। স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কহিনুর তার বাবা জাবেদ আলীর বাড়িতে থাকেন। বগুড়া জজ কোর্টের সামনে খাবারের দোকানের আয় দিয়ে কহিনুর সংসারের খরচ চালান। সংসারে তার দুই সন্তানও আছে। 

শাহানুর রহমান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামের হবিবর রহমানের ছেলে। তিনি ২০১০ সালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে চাকরি করতেন। ওই সময় কহিনুরের দোকানে প্রতিদিন খাবার খেতেন শাহানুর রহমান। সেই সুবাদে কহিনুরের সাথে তার গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কহিনুরের বাসায় শাহানুর রহমানের অবাধ যাতায়াতও ছিল। 

ওই সময় শাহানুর কৌশলে কহিনুরের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শাহানুর রহমান বগুড়া থেকে বদলি হয়ে ধুনট থানায় যোগদান করেন। এতে কহিনুরের সাথে শাহানুরের সম্পর্কে ফাটল ধরে। 

এ অবস্থায় প্রায় দুই মাস আগে পাওনা টাকা চেয়ে শাহানুরকে উকিল নোটিশ দেন কহিনুর। কিন্ত উকিল নোটিশে সাড়া দেননি শাহানুর রহমান। ফলে বগুড়া আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি নেন কহিনুর। খবর পেয়ে শাহানুুর রহমান এক সপ্তাহ আগে কহিনুর খাতুনকে ৬০ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্তে বিষয়টি মিমাংসা করে নেন। 

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালের দিকে কহিনুর খাতুন পাওনা টাকার জন্য ধুনট থানায় আসেন। এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহানুর রহমান পিটিয়ে থানা থেকে কহিনুরকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত কহিনুর ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও জনতার সামনে পেটাতে থাকেন শাহানুর। এ সময় স্থানীয় লোকজন কহিনুর খাতুনকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

এ বিষয়ে কহিনুর খাতুন বলেন, শাহানুর কৌশলে আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। সেই টাকা চাইলে সে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্ত আমি তার প্রস্তাবে রাজি হইনি। ফলে সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সে আমাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে। ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিই। এ বিষয়টি জানার পর শাহানুর টাকা দেয়ার কথা বলে বৃহস্পতিবার সকালে কৌশলে থানায় ডেকে এনে আমাকে পিটিয়ে আহত করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান উপস্থিত জনতার সামনেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সে (কহিনুর) আমাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল। অবশেষ ঝামেলা এড়াতে তাকে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে আপসনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। তারপরও বৃহস্পতিবার সকালে থানায় এসে আমাকে মামলার ভয়ভীতি দেখালে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে চড়থাপ্পড় মেরেছি।

খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরের দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোকবুল হোসেন ও গাজিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহত কহিনুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলেছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসেছেন। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা