kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

সড়কের কাজে অনিয়ম, ১০৬ এ ফোন পেয়ে মাঠে দুদক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৮:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কের কাজে অনিয়ম, ১০৬ এ ফোন পেয়ে মাঠে দুদক

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের চেংঠী হাজরাডাঙ্গা এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের করা একটি রাস্তার কাজে অনিয়ম হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বিষয়টি ১০৬ নম্বরে ফোন করে দুদককে জানান। ফোন পেয়ে মাঠে এসে দুদকের প্রতিনিধি দলও ব্যাপক অনিয়ম খুঁজে পায়। 

জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের বাগদহ বাজার থেকে শুরু করে গ্রামের শেষ পর্যন্ত সড়কটির এক দশমিক ২৮ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক পাকাকরণসহ পাঁচটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয় চলতি বছরের শুরুতে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ প্রায় ঠাকুরগাঁয়ের ঠিকাদার সোহেল। 

কিন্তু ঠিকাদার ধীর গতিতে কাজটি করলেও জুন ক্লোজিংয়ের সময় তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ দেখিয়ে বিল তুলে নেন। সড়কটিতে পাঁচটি ছোট ব্রিজও নির্মাণ করা হয়। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি করে কাজ করে দেয়ায় কয়েকদিনের মধ্যেই ফাটল দেখা দেয় সড়কের, কোথাও কোথাও দেবে যাচ্ছে আবার কোথাও কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। 

প্রত্যেকটি ব্রিজই দেবে গেছে। চোখের সামনে কাজে অনিয়ম হওযায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় স্থানীয়দের মাঝে। সম্প্রতি ওই এলাকার বাসিন্দা ও বাগদহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোমিনুর রহমান মোমিন টোল ফ্রি ১০৬ নাম্বারে ফোন দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেন। 

অভিযোগ পেয়ে গত বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুদকের কর্মকর্তারা রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। এ সময় তারা ওই কাজে ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পান। পরে তারা ওই রাস্তার কাজে অনিয়মের বিস্তারিত অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে সুপারিশ প্রেরণ করেন।
 
অভিযোগকারী স্কুল শিক্ষক মোমিনুর রহমান মোমিন বলেন, আমাদের এলাকার এই রাস্তাটির কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। কাজ শেষ হতে না হতেই ফাটল ধরেছে, দেবে গেছে, কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ব্রিজগুলোও দেবে যাচ্ছে। নামমাত্র কাজ করে দুই কোটি টাকার অধিকাংশ টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাই আমি বিষয়টি দুদককে জানিয়েছি। তারা পরিদর্শন করে গেছেন। আমরা চাই প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কাজের এই অনিয়মের সাথে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মন্ডলের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা