kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

বাঘায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ড্রেন কাজে আসছে না

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৭:৪৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাঘায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ড্রেন কাজে আসছে না

রাজশাহীর বাঘার মূল সড়কের পাশ দিয়ে তিন কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যায়ে দুই কিলোমিটার নির্মাণকৃত ড্রেন কোনো কাজে আসছে না। ড্রেনের চেয়ে রাস্তা নিচু হওয়ার কারণে পানি নামছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ জলাবন্ধতার কারণে এবার বর্ষা মৌসুমে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচলা মানুষ দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়ছে।

জানা গেছে, বাঘা পৌর এলাকায় গত বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বাঘা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের মূল সড়কের পাশ দিয়ে পৌরসভার পক্ষ থেকে তিন কোটি ৪৩ লাখ টাকার দু'টি প্রকল্প তৈরি করে দুই কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু রাস্তার চেয়ে ড্রেন উঁচু হওয়ার কারণে পানি নামছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। 

বিশেষ করে বাঘা শাহদৌলা সরকারি কলেজ মার্কেটের মূল সড়কের সামনে বেশি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, সেই পরিমাণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের কারণে বৃষ্টির পানি ড্রেনে নামতে পারছে না। আগের ড্রেনগুলো পরিষ্কার করার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। নতুন করে ব্যাপক অর্থ খরচ করা হলেও সঠিক তদারকি না থাকায় সুফল মিলছে না। 

আগে ড্রেন পরিষ্কারের পেছনে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তার পরেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ, পরিকল্পনা আর ডিজাইনে ত্রুটির কারণে এমনটি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অপরটি দক্ষিন অংশে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫০ মিটার পাইপ ড্রেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কুদ্দুস সরকার। সে সময় শহিদুল ইসলাম অত্র পৌরসভায় কর্মরত ছিলেন না বলে জানান। তবে দু’টি প্রকল্পই বাস্তবায়নে যথেষ্ট ত্রুটি  আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
 
বাঘা পৌর এলাকার সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি জিম্মি হয়ে পড়েছিল পথচলা মানুষ। বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন পৌর বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়ে দোকান, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সড়কের মাঝে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে বাঁশ গেড়ে সতর্ক চিহ্ন দেয়া হয়েছে। ফলে ড্রেন নির্মাণ করার পরেও আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।

বাঘা বাজারের ব্যবসায়ী মোত্তালেব হোসেন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় জমে থাকা নোংরা পানি দোকানে ঢুকে পড়ে। ফলে দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট হচ্ছে। এগুলো পরিষ্কার করার জন্য আলাদা শ্রম ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী শাকিব, লিটন, বাদশা, সাইফুল, পিপুল, শামিম ও শরিফসহ অনেকেই অভিযোগ করে আরো বলেন, বাঘা পৌরসভার মাধ্যমে সরকারি টাকায় দুই বছর পূর্বে যে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে তা জনগণের কল্যাণে কাজে আসছে না। গত বছর বর্ষা মৌসুমে ড্রেনের দক্ষিণের পানি উল্টো হয়ে উত্তরে প্রবাহিত হয়। এতে করে অনেকেই রাস্তায় মাছ মারতে শুরু করে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু এবার  অবস্থা আরো বেশি খারাপ। এরই মধ্যে কোনো কোনো স্থানে রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে বড়-বড় গর্তসহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। যা অনেকেই ফেসবুকে ভাইরাল করেছেন।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, গত দু’দিন আগে বাঘা-নারায়নপুর সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ড্রেন দিয়ে পানি না নামায়  রাস্তার পাশে যে বড়-বড় গর্ত হয়েছে তা ফেসবুকে লক্ষ করি। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার এবং বাঘা পৌর সভার  মেয়র আব্দুর রাজ্জাককে বিষয়টি আবগত করি। ফলে তৎক্ষণাৎ পৌর কর্তৃপক্ষ বালি ভরাট দিয়ে সেই গর্তগুলো ভরাট করে দেন।
 
বাঘা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ড্রেন নির্মাণে ত্রুটি ধরা পড়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই মোতাবেক তারা কাজ না করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তার পরেও দুই কিলোমিটার ড্রেনের মধ্যে ৯০ মিটার এখনো ঠিকাদার কাজ না করে বিল উত্তোলনের চেষ্টা করছে। ২০১৭ সালে পৌর সভার অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল থেকে তিন কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে পর-পর দু’টি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন সাবেক পৌর মেয়রের একটি প্রকল্প উত্তর অংশে ১৭৫৭ মিটার (আর.সি.সি.) কভার ড্রেন তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন করেন রাজশাহীর মা বিল্ডার নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। 

সার্বিক বিষয়ে বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শুধু বাঘা মুজিব নগর চত্বর থেকে নারায়নপুর সড়কঘাট পদ্মানদী পর্যন্ত নয়, পূর্বের মেয়র দায়িত্বে থাকা অবস্থায় যেসব উন্নয়ন সম্পন্ন করেছেন সবগুলোর প্রায় একই দশা। তার মতে, স্বজন প্রীতি এবং পরিকল্পনা ভুল হলে যা হয় ! তার পরেও চলতি বর্ষা মৌসুমের পর এই ড্রেনের কাজ তিনি পুনরায় শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা