kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০১৯ ১৬:৫৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে গোদাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক কালাচাঁন রায়কে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বেশ কয়েকজন ছাত্রী জানান, বিদ্যালয়ের পাশেই গোদাগাড়ি বাজার এলাকায় শিক্ষক কালাচাঁন রায়ের একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ পূর্বে সেখানে এক ছাত্রীকে একা পেয়ে কালাচাঁন রায় ধর্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিষয়টি জানাজানি হলে ভবিষ্যতে সমস্যা হবে এমন মনে করে ওই ছাত্রূ লজ্জায় কাউকে তা বলেননি। 

পরে গত মঙ্গলবার শিক্ষক কালাচাঁন বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ক্লাস নেয়ার সময় ক্ষিপ্ত হয়ে বেশ কিছু ছাত্রীর ওপর চড়াও হন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এতে ক্লাসের ছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করে এবং তারা বিষয়টি লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষককে অবগত করেন। 

এ ঘটনার পর বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে জানাজানি হলে তারাও বেশ ক্ষুব্ধ হন এবং ওই শিক্ষকের অপসারণের জন্য প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অবগত করেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার জরুরী ভিত্তিতে বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভা বসানো হয়। সেখানে শিক্ষক কালাচাঁনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। 

এ বিষয়ে  শিক্ষক কালাচাঁন রায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও হিংসার বশে। বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন ছাত্রীদের শাসন করাতে কেউ কেউ তা মেনে নিতে না পেরে এমন অভিযোগ করেছেন। আর বিদ্যালয়ের ভিতরেও বেশ কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন, যারা তার ক্ষতি করতে বেশ কিছুদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলি জানান, এর পূর্বেও এ ধরনের অশালীন আচরণসহ আরো বেশকিছু অভিযোগের কারণে ওই শিক্ষককে সাবধান করা হয়েছিল। 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জানান, তার সাথে ওই শিক্ষকের কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা ছিল না। কিন্তু বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির বেশ কিছু ছাত্রি তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হবে এবং শিক্ষকের কোনো দোষ না পাওয়া গেলে তাকে আবারো বহাল করা হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা