kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

কুতুবদিয়ায় এখন হাত বাড়ালেই মিলছে সামুদ্রিক মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০১:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুতুবদিয়ায় এখন হাত বাড়ালেই মিলছে সামুদ্রিক মাছ

বঙ্গোপসাগরের বুকে ভাসমান দ্বীপ কুতুবদিয়ায় এখন হাত বাড়ালেই মিলছে সামুদ্রিক মাছ। দ্বীপের সাগর তীরবর্তী পানি থেকে শুরু করে বিল-ঝিল এবং বেড়ি বাঁধের কিনারে পর্যন্ত সামুদ্রিক মাছের বিচরণ। মাত্র কয়েক মাস আগেও মাছ পেতে যে দ্বীপের জেলেদের যেতে হত দ্বীপ থেকে অনেক দূরে গভীর সাগরে। সেই দ্বীপেই সাগরের জোয়ারের পানিতে যেন কিলবিল করছে নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। এরকম দৃশ্য যেন দ্বীপের মানুষগুলোকেই এক প্রকার হতবাক করে দিয়েছে।

দ্বীপের জেলেরা মনে করছেন- গভীর সাগরের মাছ এভাবে দ্বীপে উঠে আসার নেপথ্যে একটানা গত প্রায় দুই মাস ধরে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখারই ফল। এরকম ঘটনায় দ্বীপের বাসিন্দারা মহাখুশি।

কুতুবদিয়া দ্বীপ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, দ্বীপের তীরে সামুদ্রিক মাছের বিচরণের কথা শুনেছি। এমনও শুনেছি অনেকেই বড়শি দিয়েও মাছ ধরছেন। এরকম ঘটনা দীর্ঘদিনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার একটা শুভ সংবাদের ঈঙ্গিত বলে মনে হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরো বলেন, তবে এখনো পর্যন্ত টানা ৬৫ দিনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার সময় অব্যাহত রয়েছে। যা শেষ হবে আগামী ২৩ জুলাই। তিনি বলেন, দ্বীপের কিছু লোক বড়শি দিয়ে মাছ ধরার কথা শুনে তিনি অভিযানে নেমেছিলেন তবে তাদের পাওয়া যায়নি।

কুতুবদিয়া দ্বীপের পূর্ব আলী আকবর ডেইল গ্রামের মৎস্যজীবী রপ্নাসন জলদাশ (৫০) কালের কণ্ঠকে বলেন, দ্বীপের তীরবর্তী পানিতে হয়তো বা আমার বাপ-দাদারা মাছ দেখেছিলেন। সেই দৃশ্য আর কতকাল ধরে দেখা নেই। এখন আবার মাছ তীরে এসেছে। আমরা আশা করছি, মাছ ধরা সঠিক সময়ে বন্ধ রাখলে আবার ‘পুকুর ভরা মাছ’র দিন আসবে।’ জলদাশ আরো বলেন, সাগরের মাছ ধরা বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই করা উচিৎ।

কুতুবদিয়া দ্বীপের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে দ্বীপের হাটে-বাজারে মাছ বিক্রি এক প্রকার বন্ধই ছিল। কিন্তু আকস্মিক গত দু’তিন দিন ধরে বাজারে সামুদ্রিক মাছ বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়ায় চারিদিকে রব উঠে। খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, দ্বীপের ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ দিয়ে সামুদ্রিক জোয়ারের পানির সাথে বিপুল পরিমাণের মাছ দ্বীপে ঢুকে পড়ছে।

এমনকি সাগরের গভীর পানির মাছ হিসাবে পরিচিত ‘লইট্যা’ মাছ পর্যন্ত উঠে এসেছে তীরে। অনেক লোকজন সখের বশে বড়শি দিয়েও মাছ ধরছে। সামুদ্রিক যেসব মাছ এতদিন গভীর সাগরে ধরতেও অনেক কাঠখড় পুড়াতে হয়েছে সেই সব মাছ দ্বীপে এসে যাওয়ায় দ্বীপবাসীর খুশির অন্ত নেই।

প্রসঙ্গত, সরকার সাগরে নানা প্রজাতির মাছের প্রজনন মৌসুমে গত ২০ মে থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা ৬৫ দিন মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

মন্তব্য