kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

পার্ক থেকে ধরে এনে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে ধর্ষণের মামলা!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০১৯ ১৮:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পার্ক থেকে ধরে এনে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে ধর্ষণের মামলা!

বিয়ে করতে অস্বীকার করায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা ২০ নম্বর রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে তার প্রেমিকা। এ ঘটনায় পুলিশ বুধবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগ সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজলকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সজল ২০ নম্বর রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কানিকশালগাঁও গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে।

মামলা সুত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২০ নম্বর রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজল ২৪ জুন সোমবার দুপুরে তার প্রেমিকা মধুপুর গ্রামের শামসুল হকের কন্যাসহ বুড়িরবাঁধ কল্পনা পিকনিক স্পটে বেড়াতে যায়। এদিকে মেয়েটির ভাই ও আত্মীয়রা এ ঘটনা জানতে পেরে সকাল থেকে পার্ক এলাকায় অপেক্ষা করতে থাকে। প্রেমিক সজল একপর্যায়ে তার প্রেমিকাসহ নির্জনে বসে আলাপকালে মেয়ের নিকটজনরা সেখানে হাজির হয় এবং ছাত্রনেতা সজলকে পার্ক থেকে ধরে নিয়ে আসে এবং বাড়িতে আটকে রাখে। এ সময় প্রেমিকা ও তার পরিবারের লোকজন বিয়ে করার জন্য সজলকে চাপ দিতে থাকে। 

এদিকে বিষয়টি মিটমাটের জন্য ১ নম্বর রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু, ২০ নম্বর রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অনিল কুমার সেন এবং ১২ নম্বর সালন্দর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মুকুলের মধ্যস্থতায় ২ দিনব্যাপী বেশ কয়েকবার বিয়ের জন্য কাজী আনা হয়। কিন্তু ছাত্রনেতা সজল বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মঙ্গলবার রাতে প্রেমিক প্রেমিকাকে রুহিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়। সেখানেও উভয় পক্ষের মাঝে সমঝোতার চেষ্টা চলে। অবশেষে বুধবার দুপুরে কলেজছাত্রী তার প্রেমিক সজলের বিরুদ্ধে রুহিয়া থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দিলে পুলিশ ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা রুজু করে  এবং সন্ধ্যায় সজলকে জেলহাজতে পাঠায়। অপরদিকে ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী কলেজছাত্রীর দাবি, প্রেমিক সজল বিয়ের প্রলোভন দিয়ে গত ২৩ মে সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে যায় এবং পশ্চিম ভিটা পূর্ব দুয়ারী টিনশেড ঘরে তাকে ধর্ষণ করে। এ ছাড়াও ২৪ জুন থেকে ২৫ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত আটক থাকাকালীন সজল তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

১ নম্বর রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু জানান, এটি প্রেমঘটিত বিষয়। ছেলে ও মেয়ের প্রায় তিন বছর ধরে সম্পর্ক। ছেলে প্রথমে বিয়ে করার আশ্বাস দিলেও অবশেষে পরিবারের চাপে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সকলে মিলে মিটমাটের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ছেলে ও তার অভিভাবক রাজি না থাকায় মেয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছে।

রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় কালের কণ্ঠকে জানান, এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে একটি ধর্ষণ মামালা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার বাদী তার এজাহারে বিভিন্ন সময়ে তার প্রেমিক কর্তক ধর্ষিত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। কিন্তু প্রেমিক সজল তার প্রেমিকাকে বিয়ে করতে টালবাহানা করায় তার অভিযোগের ভিত্তিকে ধর্ষণের মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রেমিক সজলকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা