kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ, অবশেষে মৃত্যুর কোলে নার্স তানজিনা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০১৯ ১৬:৪৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ, অবশেষে মৃত্যুর কোলে নার্স তানজিনা

ঠাকুরগাঁওয়ে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হওয়া তানজিনা আক্তার (২৪) নামের এক নার্সের মৃত্যু হয়েছে। তানজিনা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালান্দর মাদরাসা পাড়ার আব্দুল হামিদের মেয়ে ও ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকাকালীন তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২০ জুন সকালে ভাতিজা বখাটে আরমান ইসলাম জীবন (১৯) এর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয় তানজিনা। এ ব্যাপারে ওই দিন সন্ধ্যায় তানজিনার বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে জীবনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

তানজিনার বাবা আব্দুল হামিদ জানান, ঠাকুরগাঁও গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের নার্স তানজিনা আক্তার প্রতিদিন সকালে হাসপাতালে যাবার রাস্তায় তাকে ও অন্যান্য মেয়েদের বখাটে আরমান ইসলাম জীবন ও তার কিছু সহযোগী উত্ত্যক্ত করত। এসব দেখে তানজিনা তাদের বাধা দিত এবং বিষয়টি তাদের পরিবারে জানানোর কথা বলত। ঘটনার দিন তানজিনা কর্মস্থলে যাবার উদ্দেশ্যে তার বাড়ি থেকে বের হয়। সে সময় বখাটে জীবন ও তার সহযোগীরা তানজিনার পথরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ডান হাতে, বুকে এবং পেটে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তানজিনা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসলে বখাটেরা পালিয়ে যায়। 

এ সময় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তানজিনাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে আইসিইউতে এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পরে বৃহস্পতিবার সকালে তানজিনার মৃত্যু হয়। মেয়ে তানজিনার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচারের দাবি জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, এজাহারভুক্ত আসামি জীবনকে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা