kalerkantho

বুধবার । ১৭ জুলাই ২০১৯। ২ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৩ জিলকদ ১৪৪০

এলাকাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জুন, ২০১৯ ১২:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এলাকাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাচ্ছে দুই যুবক। স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি চেষ্টা করছেন স্বামীকে বাঁচাতে।  কিন্তু স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলে চলে হামলা। এরই মধ্যে রক্তাক্ত হন স্বামী রিফাত। রক্তে ভিজে যায় তার শার্ট-প্যান্ট ঘটনার সময় শত শত লোক এবং শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ও আশেপাশে উপস্থিত ছিল। এমন অবস্থা দেখেও রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউই। সবাই তখন ভিডিও করা নিয়ে ছিল ব্যস্ত।

গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রিফাত শরীফ (২৫) নিহত হয়েছেন। স্ত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বরগুনার বুড়িরচর ইউনিয়নের উত্তর বড় লবণগোলা গ্রামের শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে। বুধবার সকালে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে আসামাত্রই প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে স্বামী রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের এ দৃশ্য বরগুনা সরকারি কলেজের কলা ভবন থেকে শিক্ষার্থীরা মোবাইলে ভিডিও করলেও এগিয়ে আসেননি। ওই সময় ঘটনাস্থলের আশেপাশে আরও অনেক শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ থাকলেও রিফাত ও তার স্ত্রীকে রক্ষা করেনি কেউই। পরে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে ভাইরাল হয়ে যায়।

এছাড়া রিফাতের ওপর হামলার ঘটনার স্থানটি বরগুনা জেলা পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত ছিল। কিন্তু ওই সময় পুলিশও তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। এমনকি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় এ ঘটনা ঘটলেও ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে রিফাতের খুনিদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনাটি পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল। ঘটনাস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ।

হামলার পর রিফাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রিফাতের মৃত্যু হয়। রিফাত শরীফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা যুবকের নাম রিফাত ফরাজী। রিফাত ফরাজী বরগুনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের মো. দুলাল ফরাজীর বড় ছেলে। তার সঙ্গে আরও যাকে কোপাতে দেখা যায় সে হলো পৌরসভার ধানসিঁড়ি সড়কের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে নয়ন বন্ড।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি যেখানে ঘটেছে সেখানে পুলিশের সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদেরকে শনাক্ত করেছি আমরা। তবে সময়মতো ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। অভিযান চলছে, সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা