kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

একজনকে কোপানো হচ্ছে, বাকিরা দাঁড়িয়ে দেখছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জুন, ২০১৯ ১১:৫৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একজনকে কোপানো হচ্ছে, বাকিরা দাঁড়িয়ে দেখছে

স্ত্রীর চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি স্বামীকে। একবার এ খুনির কাছে তো, আরেকবার ও খুনির কাছে। ফের রামদায়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ান। যেন ফিল্মের কোনো শুটিং হচ্ছে। একের পর এক কোপ এসে পড়ছে স্বামীর শরীরে স্ত্রী ভয়ংকর চিৎকারে আকাশ পাতাল এক করে ফেলছেন। কিন্তু কেউ এগিওয়ে আসছে না। অথচ বলা হচ্ছে সেটা জনবহুল, জনসমাগমপূর্ণ এলাকা।

জনবহুল কলেজ গেটে। শত শত মানুষ ঠায় দাঁড়িয়ে দেখছে। অনেকের হাতে মোবাইল। ক্যামেরা চালু করে দিব্যি ছবি তুলছে। দাঁড়িয়ে থাকারা প্রায় সবাই যুবক গোছের। খুনিদের থেকে ভালো স্বাস্থের অধিকারী। কিন্তু কেউ এলো না বাঁচাতে! বরং হামলা শেষে একজন এগিয়ে এসে খুনিদের পালিয়ে যেতে ইশারা করল। যেন আপতত, শ্যুটিং বন্ধ। রিফাতের শহীর থেকে রক্ত ঝরছে। 

স্ত্রী আয়েশা সিদ্দীকা মিন্নি রিফাতকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এগিয়ে আসেনি কেউ।  খুনির সামনে এক নিষ্ঠুর পৃথিবীকে দেখেছে মিন্নি। দেখেছে মানুষরূপী হায়েনাদের নির্মমতা, দেখেছে দর্শকরূপী মানুষের নীরবতা। পৃথিবীকে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না এ নারী। বিষাদের রক্তক্ষরণ তার হৃদয়কে পাথর করে দেবে হয়ত। 

এমনই ভিডিওতে এসব দৃশ্য উঠে এসেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে স্ত্রীর সামনে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তার বাবার নাম আ. হালিম দুলাল শরীফ। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন রিফাত।

রিফাত হত্যার নিন্দা বইছে সর্বত্রই। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফের শিহরিত করছে মানবতাকে। প্রতিবাদের ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। মনে করিয়ে দিচ্ছে বিশ্বজিৎ রায় আর অভিজিৎ রায়ের হত্যাকাণ্ডকেও। বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই এমন হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করছেন কেউ কেউ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা