kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

ঝিকরগাছা-গোয়ালন্দ

চিকিৎসক সেজে রোগী দেখেন দুই অফিস সহায়ক

ঝিকরগাছা (যশোর) ও গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি    

২৭ জুন, ২০১৯ ১১:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিকিৎসক সেজে রোগী দেখেন দুই অফিস সহায়ক

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার অমৃতবাজার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) চিকিৎসক সেজে রোগী দেখেন! বিষয়টি বুঝতে না পেরে অসহায় রোগীরাও অফিস সহায়কের নির্দেশনাই মেনে চলছে।

গত সোমবার সকাল ১১টায় অমৃতবাজারের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসকের চেম্বারে বসে রোগী দেখছেন অফিস সহায়ক খাইরুল ইসলাম। অমৃতবাজার গ্রামের নবী উল্লাহ নামের একজন শ্বাসকষ্টের রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি। একই গ্রামের বয়োবৃদ্ধ বশিরুল্লাহ মুন্সীও এসেছেন ডাক্তার দেখাতে। তাঁরা কেউ জানেন না খাইরুল ইসলাম আসলে কোনো চিকিৎসকই নন। একপর্যায় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে রোগী দেখা বন্ধ করে দেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব মতে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে নিবন্ধিত চিকিৎসক, চিকিৎসকের সহকারী, ফার্মাসিস্ট, সেবিকা ও অফিস সহায়ক থাকার কথা। কিন্তু এ কেন্দ্রে আছেন মাত্র একজন অফিস সহায়ক ও একজন সেবিকা। তা ছাড়া এ কেন্দ্রে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে বাহারুল ইসলামের নাম খাতা-কলমে থাকলেও দুই বছর ধরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোরকিপারের দায়িত্ব পালন করছেন।

অফিস সহায়ক খাইরুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাবিদ্যায় তাঁর কোনো প্রশিক্ষণ নেই। তবে দীর্ঘদিন এখানে কাজ করার কারণে কিছু রোগের চিকিৎসা দিতে পারছেন। এই কেন্দ্রে প্রতিদিন ২৫-৩০ জন রোগী আসে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুর রহমান জানান, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসকসহ পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসছে না। ফলে এলাকাবাসীকে যেকোনো সমস্যায় সদর অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে।

উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অবিলম্বে এখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’ তিনি আরো জানান, উপজেলার অপর বাঁকড়া ও গঙ্গানন্দপুর উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটিও চিকিৎসকের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। সব মিলিয়ে এ উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে ১১৮ জনের স্থলে আছে ৭৪ জন। ফলে জনবলের অভাবে গোটা উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, পর্যাপ্ত জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেক আগেই অবহিত করা হয়েছে। খুব শিগগির চিকিৎসক পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপসহকারী দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। প্রয়োজনীয় সার্জন ও অ্যানেসথেসিস্ট না থাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটারটি বহু বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটিও বিকল হয়ে পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা পেতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি এলাকার প্রায় দুই লাখ মানুষের ভরসাস্থল। প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক বিভিন্ন রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ওই হাসপাতালে অন্তত ১০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কার্ডিওলজি, গাইনি, শিশু ও অর্থোপেডিক্স ছাড়া অন্য ছয় পদে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এর মধ্যে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা ইসলাম প্রেষণে অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রেষণ বাতিল করা হলেও তিনি এ হাসপাতালে যোগদান করেননি। শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আলাউদ্দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল বাক্কী বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসকসহ অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিন চালুর বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা