kalerkantho

বুধবার । ২৪ জুলাই ২০১৯। ৯ শ্রাবণ ১৪২৬। ২০ জিলকদ ১৪৪০

টেকনাফ ও উখিয়ায় মাদক বিরোধী সমাবেশ

মাদক কারবারিদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

২৭ জুন, ২০১৯ ০১:৪১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মাদক কারবারিদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন

ছবি: কালের কণ্ঠ

আন্তর্জাতিক মাদক প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মাদকের সাম্রাজ্য খ্যাত কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও উখিয়ায় গতকাল বুধবার মাদক বিরোধী সমাবেশ হয়েছে। গতকালের দিবসটি উপলক্ষে জেলা শহরের দিবসের সবধরণের কর্মসূচি সীমান্তের এ দুই উপজেলাকে ঘিরে পালিত হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় টেকনাফ উপজেলা প্রাঙ্গন ও বিকালে উখিয়ার সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
 
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ইয়াবার গেইটওয়ে হিসাবে পরিচিত সীমান্ত উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফের দুটি পৃথক সমাবেশেই উপস্থিতিদের হাত তুলে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। সমাবেশে সীমান্তবাসীরা শপথ নিচ্ছেন- ‘আমরা আর মাদকের সঙ্গে জড়িত হবো না। মাদক কারবারি কাউকে সহযোগিতা করব না। মাদক কারবারিদের সামাজিকভাবে বয়কট করব।’
 
টেকনাফের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, যারা মাদক কারবারে জড়িত তাদের কোনো ধরনের ছাড় নেই, তারা ধরা পড়বেই। মাদক কারবারিদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করুন। তাদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করুন এবং তাদের ব্যাপারে আপনারা আমাদের তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহযোগীতা করুন। 
তিনি আরো বলেন, মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক কারবারিরা অর্থ, এয়ারকন্ডিশনসহ বিভিন্ন ধরনের অনুদান প্রত্যাহার করুন। এছাড়া যেসব জনপ্রতিনিধি ইয়াবা কারবারের সঙ্গে জড়িত থেকে দীর্ঘদিন এলাকায় অনুপস্থিত তাদের বরখাস্ত করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একদিন আধা ঘণ্টা মাদকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করেন।
 
উপজেলা প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাদক বিরোধী সমাবেশে টেকনাফের ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খাঁন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের মাধ্যমে মাদক বিরোধী যে অভিযান চলছে, আমার জায়গা থেকে আমি তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব। 
 
অনুষ্ঠানে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, টেকনাফে এক সময় সুগন্ধি বাতাস বইত, সেই টেকনাফে এখন ইয়াবার গন্ধ বইছে। স্কুল ছাত্র থেকে শুরু করে এখানকার কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ ও জনপ্রতিনিধি সবাই ইয়াবা নিয়ে ব্যস্ত।
 
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আদিবুল ইসলাম, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো. আলী, টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম, টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজী মো. ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার সহকারী পরিচালক সৌমেন মন্ডল, কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার মোহাম্মদ সোহেল রানা। সভা সঞ্চালনা করেন টেকনাফ ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক সন্তোষ কুমার শীল।
 
অপরদিকে বুধবার বিকালে উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও মাদক বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। মাদক ব্যবসায়ী যত বড় নেতা হোক না কেন প্রশাসন কারো প্রতি নমনীয় হবে না। তিনি বলেন, এলাকার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আধা ঘণ্টা মাদক বিরোধী আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উদ্ধুদ্ধ করার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে নিদের্শ দেন।
 
জেলা প্রশাসক সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ‘আমি আজ সকালে কক্সবাজার থেকে উখিয়া আসার পথে দেখেছি ফসলি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে ফসলি জমি বিনষ্ট করা যাবে না। ফসলি জমিতে দালান নির্মাণ ভূমি ব্যবস্থাপনা আইনের পরিপন্থি।’
 
তিনি বলেন, আইনে বলা আছে যদি কারো বেশি প্রয়োজন হয় যে ফসলি জমিতে বাড়ি নির্মাণ করা ছাড়া তার কোনো বিকল্প নাই। তাহলে ওই ব্যক্তিকে কালেক্টরের অনুমতি নিতে হবে।
 
জেলা প্রশাসক অবিলম্বে ফসলি জমিতে নির্মাণাধীন যাবতীয় ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করে বলেন, খতিয়ে দেখতে হবে রাতারাতি ৪/৫ তলা বিল্ডিং তোলার জন্য তারা এত টাকা পেল কোথায়? নিশ্চয় এসব ব্যক্তিরা অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে তাদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন। পরে জেলা প্রশাসক সমাবেশে উপস্থিত সকলকে মাদক বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করান।
 
সভায় বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহজাহান আলী, ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ, উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফখরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য আশরাফ জাহান কাজল, উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নেছা বেবী, উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের, হলদিয়া পালং ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, উখিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হোছাইন সিরাজী।

মন্তব্য